ওরা তিন বন্ধু- রবার্ট, গোটফ্রীড, ওটো
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের তিন সৈনিক।
প্যাট্রিসিয়া- দুঃসাহসী এক মেয়ে।
কার্ল- লক্কড়মার্কা চেহারার তেজি এক রেসিংকার।
যুদ্ধোত্তর জার্মানীর চরম দুঃসময়ে সুখে-দুঃখে
এক সাথে এরা সবাই।
এ -উপন্যাস সম্পর্কে পত্র-পত্রিকার মন্তব্য:
পূর্ববর্তী উপন্যাসগুলোর চেয়েও উৎকৃষ্ট। (নিউজ উইক)
এটি সম্ভবত এই লেখকের সবচেয়ে কোমল,
অনুভূতিময় এবং মর্মস্পর্শী উপন্যাস। আমাদের
সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভালোবাসার গল্প। (নিউ ইয়র্ক টাইমস)
বইটা একইসাথে অসাধারণ বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার আখ্যান। যুদ্ধ পরবর্তী জার্মানির পটভূমিতে বন্ধুত্ব, ভালোবাসার কাহিনী অসাধারণ ভাবে উঠে এসেছে। রবার্ট,গোটফ্রিড এবং ওটোর মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক লেখক দুর্দান্ত ভাবে তুলে ধরেছেন।আবার একইসাথে আমার পড়া সবচেয়ে বেস্ট রোমান্টিক বই গুলোর একটি ।রবার্ট আর প্যাটের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক লেখক অসাধারণ ভাবে তুলে ধরেছেন। এর আগে লেখকের অল কোয়ায়েট অন দি ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট পড়েছি ।এবার থ্রী কমরেডস পড়লাম। পরে লেখকের জাস্ট ফ্যান হয়ে গিয়েছি। এই দুইটা বই পড়ে লেখকের জাস্ট ফ্যান হয়ে গিয়েছি। আর এরিক মরিয়া রেমার্কের অন্যান্য বইয়ের অনুবাদের মতো এটার অনুবাদও মাস্টারপিস লেভেলের হয়েছে।
Was this review helpful to you?
By Rouf Ul Alam, May 23, 2012
Verified Purchase
থ্রি কমরেডস আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়া এক উপন্যাস। জীবনবোধশূন্যতা আর মানুষের মানবিক-আবেগিক দিকগুলো তুলে ধরে নব উপলব্ধি আনা এক গ্রন্থ। যতোবারই আমি থ্রি কমরেডস-এর কিছু নির্দিষ্ট লাইন পড়ি, তখনই ফিরে যাই অদ্ভুত শূন্যতায়, জীবনবোধের নতুন আত্মোপলব্ধিতে।
রবার্ট লোকাম্প, ফ্রেডরিক লেনতস, অটো কোস্টার যুদ্ধ ফেরত তিন কমরেড, চারদিকে ভাঙন এ পরিস্থিতিতেও তারা স্বপ্ন দেখে নতুন করে বাচার। গতানুগতিক জীবন থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু ভাবার। তারা স্বপ্ন দেখে, তারা স্বপ্ন আনে, তারা শুধু যুদ্ধের নয়, চিরকালেরই যোদ্ধা। এর মধ্যে প্রধান চরিত্র বব (রবার্ট লোকাম্প) এর জীবনে আসে প্রেম - প্যাট্রিসিয়া। বব-এর ভাষায় প্যাট। বব জীবনের নতুন সুরে তরঙ্গায়িত হয়, কারো জন্য তাকে বাচতে হবে, বাচার মতো বাচা। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত প্যাট এক সময় মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলে। বন্ধুর এ দুঃসময়ে এগিয়ে আসে অকৃত্রিম দুই বন্ধু। তাদের শেষ সম্বল জীবন ধারণের একমাত্র হাতিয়ার গারাজ বিক্রি করে বন্ধুর হাতে অর্থ তুলে দেয় নিঃসঙ্কোচে।
বইটিতে আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয় তিনজনের বন্ধুত্ব। আমি শিখেছি বন্ধুত্ব কি? কেন এটা মানুষের জীবনে দরকার?
বব আর প্যাটের প্রেমও আমাকে নাড়া দেয়। সব আশা হারানো, সব পথ হারানো একজন মানুষও প্রেমের কারণে কতোটা মোটিভেটেড হয়, কতোটা সৃজনশীল হয়, কতোটা স্বার্থ ত্যাগ করতে পারে এ বইটিই আমাকে শেখায়। বইটির যে সমাজের চিত্র লেখক একেছেন তার সঙ্গে আমি মিল পাই আমাদের দেশের পরিস্থিতির। এতো হতাশা, এতো যন্ত্রণা, এতো আশাভঙ্গ, এতো বিশ্বাসঘাতকতা, এরপরও এ দেশবাসী বেচে আছে নতুন কোনো সূর্যোদয়ের, নতুন কোনো স্বপ্নোদয়ের আশায়।