#রকমারি_বইপোকা_রিভিউ_প্রতিযোগীতা।
বই- রক্তবীজ।
লেখক- পিটার ট্রিমেন।
অনুবাদ- খসরু চৌধুরী।
ধরন- হরর।
প্রকাশনী- প্রজাপতি।
প্রধান চরিত্র- মার্সিয়া, আইরিন, জন, ড্রাকুলা, ভ্ল্যাদ, মিহাইল।
একটি মেয়েলী ঝামেলায় পড়ে ইতালি ছাড়তে হয় মার্সিয়াকে। তবে গন্তব্যও খুজে পেতে দেরী হয়না তার। যখন তার ইতালি ছাড়ার প্রয়োজন তখনই তার পূর্বপুরুষের সাম্রাজ্য ওয়ালাচিয়া থেকে তার দুই ভাই ভ্ল্যাদ ও মিহাইলের চিঠি আসে। চিঠিতে জানা যায় তাদের বাবা ওয়ালাচিয়ার প্রিন্স ড্রাকুলা মারা গেছেন। ভাইদের অনুরোধ মার্সিয়া যেনো এসে বিষয় সম্পত্তির ভাগ বুঝে নেয়। চিঠি মোতাবেক ওয়ালাচিয়া রওনা হয় মার্সিয়া। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পূর্বেই কিছু অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় সে। স্থানীয় লোকজন তার উদ্দেশ্য জেনে তাকে সেখানে যেতে নিষেধ করে। তাদের প্রশ্ন করে পরিষ্কার ভাবে কিছুই জানতে পারেনা মার্সিয়া। শুধু এতোটুকু ধারনা হয় ওয়ালাচিয়ার প্রাসাদে অশুভ কিছু আছে।
এক অদ্ভুত গাড়োয়ান তাকে প্রাসাদে নিয়ে যায়। গাড়োয়ানকে দেখে মানুষের চেয়ে শয়তানই মনে হয় বেশী। তবে ভাইদের প্রতি আত্মিক টানের কারনে এতোকিছু নিয়ে ভাবনায় বসে না মার্সিয়া। প্রাসাদে যেয়ে ভাইদের সাথে সাক্ষাৎ হয় মার্সিয়ার। তবে শুধু রাতেই তাদের দেখা পায় মার্সিয়া। দিনের বেলা ভাইরা কোথায় থাকে তা জানা যায় না। অদ্ভুত এই বাড়িতে কোনো কাজের মানুষেরও দেখা পায় না সে। রাতে কাজের এক মেয়ে আসে তার সাথে দেখা করতে। সে নিজেকে গাড়োয়ানের মেয়ে বলে পরিচয় দেয় এবং মার্সিয়াকে যতো দ্রুত সম্ভব প্রাসাদ ছেড়ে চলে যেতে বলে। ঠিক পরের রাতেই এই মেয়েই কেমন বদলে গিয়ে মার্সিয়ার কাছে নিজেকে সপেঁ দিতে আসে।
ধীরে ধীরে এক ভয়ঙ্কর সত্য জানতে পারে মার্সিয়া। তার বাবা কাউন্ট ড্রাকুলা যে নিজেকে ড্রাগন বা শয়তানের পূত্র বলে মনে করে সে নিজেই এক ভয়ানক শয়তানি শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এই অশুভ শক্তির কুদৃষ্টিতে পড়ে কাউন্টেস আইরিন ব্যাথোরির ওপর। একা মার্সিয়ার ক্ষমতা নেই বাবার অশুভ শক্তিকে মোকাবেলা করার। সে পাশে পায় বন্ধু জনকে। দুজনে মিলে কাউন্টেস আইরিনকে অনেক কষ্টে উদ্ধার করেন আনে এবং ব্যাপারটা শেষ করার জন্য হানা দেয় ক্যাসল অব ড্রাকুলায়। কিন্তু ভ্যাম্পায়ার বাবা ও ভাইদের বিরুদ্ধে কিভাবে লড়বে মার্সিয়া? ওকেও তো ভ্যাম্পায়ার বানানোর জন্যই নিয়ে আসা হয়েছে ক্যাসল অব ড্রাকুলায়।
এই বইয়ের পটভূমি ড্রাকুলা পূর্ববতী সময়ের। ব্রাম ষ্টোকারের বইতে তার ক্ষতিকর ব্যাপার স্যাপার এলেও সে কিভাবে ভ্যাম্পায়ারে পরিণত হয় তা সেখানে উল্লেখ্য নেই। এ বইতে সেই ব্যাপার এসেছে। কিভাবে সে মানুষ থেকে আনডেড ভ্যাম্পায়ারে পরিণত হলো তার বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। ড্রাকুলার পূর্বপুরুষ, তাদের ইতিহাস, সাম্রাজ্য ইত্যাদি সমগ্র ব্যাপার উল্লেখ্য করা হয়েছে। উল্লেখ্য ড্রাকুলার বেশকিছু ব্যাপার নেওয়া হয়েছে ইতিহাস থেকে। ওসমানী শাসনাধীন সময়ে ভ্ল্যাড দ্য ইমপালার নামে সত্যিই একজন কাউন্ট ছিলেন রোমানিয়ার কার্পেথিয়ান অঞ্চলে। তিনি ওসমানীদের অনুগত ছিলেন তবে সুযোগ পেলে বিদ্রোহও করে বসতেন। সেখান থেকেই এসেছে এই কাউন্ট ড্রাকুলা মিথ। বাস্তব ড্রাকুলা ছিলেন খুব অত্যাচারী। অন্তত তাই জানা যায় তার সর্ম্পকে। বইতেও তার সেই নেগেটিভ চরিত্রই ফুটে উঠেছে। তবে একটু অলৌকিকভাবে। আশা করি সবার ভালো লাগবে। কেনোনা এই হরর ইতিহাসের সাথে সংযুক্ত।
রেটিং- ৪.৪০/৫.০০