তিনি ছিলেন রণাঙ্গনের একজন যোদ্ধা। রাইফেল হাতে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন মাত্র ১৮ বছর বয়সে। সেই বয়সেই ট্রেঞ্চে বসে প্রত্যক্ষ করেছেন মিত্র বাহিনীর প্রবল আক্রমণ আর সহযোদ্ধাদের মৃত্যু। নিদারুণ খাদ্যের অভাব, উর্ধতন কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহার এবং সামনে বিশাল এক শক্তিশালী সৈন্যবাহিনীর আক্রমণ মোকাবেলা এক কিশোরের জন্য ছিল
সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা। জীবনে হতে চেয়েছিলেন শিক্ষক। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে হয়ে উঠলেন একজন যোদ্ধা। শত্রুপক্ষের গোলার আঘাতে আহত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসেন। এরপর যুদ্ধ দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন দারুণ সব উপন্যাস। ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’, ‘দ্য ড্রিম রুম’, দ্য রোড বাক’, ‘দ্য স্পার্ক অব লাইফ’, ‘এ টাইম টু লাভ এ্যান্ড এ টাইম টু ডাই’ , ‘হ্যাভেন হ্যাজ নো ফেভারিটস’, ‘ দ্য নাইট ইন লিসবন’, ‘দ্য প্রমিস ল্যান্ড’, ‘শ্যাডোস ইন প্যারাডাইস’, ‘থ্রি কমরেডস’, ‘ব্ল্যাক অবিলিস্ক’ প্রভৃতি।
মূলত কিশোর যোদ্ধার চরিত্র এখানে শিল্পীর মমতায় তুলে এনেছেন রেমার্ক। নিজে রণাঙ্গনের যোদ্ধা ছিলেন বলেই তা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে তুলে আনতে পেরেছেন তিনি। ট্রেঞ্চে বসে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে ঠাট্টা তামাশা অথচ একটু পরেই হয়তো ছুটে আসবে শত্রুপক্ষের মেশিনগানের বুলেট। এর মধ্যেও আশ্চর্য রকমভাবে নিজের মানবিকতা টিকিয়ে রেখেছিল নায়ক পল ব্রেমার। তার চোখে সেই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রজাপতিদের ওড়াউড়ি যেমন চোখ এড়ায় না তেমনি বসন্তের ফুলের আগমন তাকে ভাবালু করে তোলে। দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে ফিল্ড হাসপাতালে থাকতে থাকতে মানুষকে জানতে শিখে যায় পল। সে নিজে শিক্ষক হতে চেয়েছিল অথচ যুদ্ধ তাকে বানিয়ে দিল সৈনিক। যুদ্ধ মানুষের জীবনকে তছনছ করে দেয়। তার সহজ স্বাভাবিক জীবনকে ভেঙ্গে দেয়। রেমার্ক নিজের চোখে একজন সৈনিক হিসেবে প্রথম মহাযুদ্ধের বিভীষিকা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তাই লেখনীর মধ্য দিয়ে বারবার ঘুরেফিরে যুদ্ধ বিরোধী কথাই বলতে চেয়েছেন। -