তাফসীর বাজারে অনেক পাওয়া যায়। কেউ নির্দিষ্ট কোন তাফসীর সাজেস্ট করলে মৌলিক কয়েকটি প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিকঃ ১. এই তাফসীরের বিশেষত্ব কী? ২. অন্যান্য তাফসীর এমন নয় কেন? ৩. এই তাফসীর পড়ার জন্য pre-requisite কি? ৪. এই তাফসীর কী বর্তমান বিশ্বের খিলাফতহীন মুসলিম সমাজের আলোকে কুরআনের আন্দোলনমুখী ব্যাখ্যা দিতে পারে? যদি কোনো তাফসীরের পক্ষে এই প্রশ্নগুলোর মনপুত জবাব পান, তাহলে সেই তাফসীর কেনা উচিত।
তাফহীমুল কুরআনের পক্ষে আমি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেয়েছি অধ্যাপক গোলাম আযমের 'কুরআন বোঝা সহজ' বই থোকে।
তাফহীমুল কুরআন লেখার সময় মাওলানা মওদূদী অনুভব করলেন, কুরআনে বর্ণিত যেসব জায়গা আছে, সেগুলো আগেই পরিদর্শন করা দরকার। এজন্য ২ বছর ব্যয় করে মাওলানা মওদূদী বাহরাইন, যাহরান, খোবার, দাম্মাম, রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা, তায়েফ, মদীনা, জর্দান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, মিশর, কুয়েত সফর করলেন। তিনি এসব দেশে সরকারি আতিথিয়েতায় কুরআনে বর্ণিত স্থানগুলো পরিদর্শন করলেন, এসব দেশের নাগরিকরাও এ স্থানগুলোর বেশিরভাগ জায়গায় যেতে পারে না সরকারের অনুমতি ছাড়া। আর যে কাউকেই সরকার অনুমতি দেয় না। এই সফরের উদ্দেশ্যও ছিল তাফসীর লিখতে গিয়ে যেন কুরআনে বর্ণিত ওই ঘটনাগুলো দুর্বোধ্য না হয়, বুঝতে সহজ হয়; তাই ওই স্থানসমূহ পরিদর্শন করা। মাওলানা মওদুদী ২ বছর শুধু এই পরিদর্শনের জন্য ব্যয় করেছেন তাফসীর লেখার সময়ে। আমরা যারা অনারব, তারা স্বাভাবিকভাবেই স্থানগুলোর সাথে পরিচিত না। তাই ক্লিয়ারলি কুরআনের ওই ঘটনাগুলো কাছ থেকে দেখার মতো একটা ফিলিংস পাওয়ার জন্য এই ভ্রমণকাহিনীটা পড়া দরকার। এই ভ্রমণকাহিনী পড়ার পর তাফহীম থেকে কুরআনে বর্ণিত ওই ঘটনাগুলো পড়লে মনে হবে যেন ঘটনাগুলো সচক্ষে দেখছি। যেন নিজেরাই ঘটনাগুলো পার করছি এমন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ক্রিয়েট করা যাবে। বইয়ের সাইজ অনুযায়ী দামও একদম পানির দাম। মাত্র ৯০ টাকা রকমারিতে।