মানুষ অধ্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে তার আচরণের অধ্যায়ন। আর মানুষের আচরণ প্রতিভাত হয় তার সামাজ ও সংস্কৃতির নিরিখে। মানুষের সমাজ যেমন তার ভাষাকে নির্মাণ করে তেমনি তার মনোজগতকেও অনেকাংশে নির্মাণ করে দেয়। ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে মানুষের সমাজ যেমন ভিন্ন হয় তেমনি ভিন্ন হয় তার ভাষা ও সংস্কৃতি। হাওর অঞ্চদের ভাষা-সংস্কৃতি তার প্রমাণ। অন্যদিকে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের যে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথেই খেলার নিবিড় সংযোগ রয়েছে। খেলাধুলা যেমন মানুষের মৌলিক জৈব প্রক্রিয়াগুলি বিকশিত করে দেয় তেমনি তার মনোজগৎকে ইতিবাচক সংগ্রামের জন্য সক্রিয় করে তোলে। এই সক্রিয়তার ভেতর দিয়ে সে আবিষ্কার করে স্বীয় সত্তা, দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গী। এই দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গী তাকে অন্যের আচরণ ও সংস্কৃতির প্রতি সংবেদনশীল হতে শিক্ষা দেয়; শিক্ষা দেয় জবরদস্তিমূলক সংস্কৃতির বিরুদ্ধাচারণ করতে এবং উৎসাহিত করে সমাজের ভিন্ন ভাষা সংস্কৃতির মানুষের বিষয়ে জানতে। মূলত জানার মধ্য দিয়ে একজন মানুষ অন্য মানুষ ও মানুষের আচরণ সম্পর্কে নিজের বোঝাপড়ার বিষয়টিকে ঝালিয়ে নেওয়ার প্রয়াস পায় আর সেই প্রয়াসের নাম হচ্ছে ত্রিবিধ।
Report incorrect information