মানব-সমাজ ও সভ্যতার উৎকর্ষ-সাধনে যতগুলি উপাচার কাজ করেছে, তার মধ্যে সাহিত্য অন্যতম। সাহিত্যের ভেতর দিয়ে মানুষ তার ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং সমগ্র প্রকৃতির বাস্তবতাকে যেমন অনুভব করতে শিখেছে, তেমনি সর্বজনীন সৌন্দর্য ও কল্পনার এক পরম রূপকেও উপভোগ করতে সমর্থ হয়েছে। সাহিত্য মানব-হৃদয়ের এমন এক সামান্য মৃত্তিকা, যে-মৃত্তিকায় শিল্পীমনের অপার শ্যামলিমা আর অসামান্য সৌন্দর্য-কুসুম প্রস্ফুটিত হয়ে থাকে। সাহিত্য এমন এক স্বতন্ত্র পৃথিবী, যে-পৃথিবীতে মানুষ তার নিজের জন্য অসংখ্য পৃথিবীর সন্ধান পেতে পারে। জীবনের স্কুল অর্থের ঘেরাটোপ পেরিয়ে সূক্ষ্ম অর্থ ও সুন্দরের অপার ব্যঞ্জনাপ্রত্যাশী মানুষের জন্য হাজার হাজার বছর ধরে অমৃত-সঞ্জীবনীর কাজ করে আসা সাহিত্য আজ বিবিধ সংকটের সম্মুখীন। কী সেই সংকট? কতোটা গভীর সেই সংকট? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অকল্পনীয় অগ্রগতি, অপরিসীম ভোগবাদ আর অপরিমেয় ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষায় উগ্র মানুষ আজ নিজেই নিজের ধ্বংস ও বিলীনতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। না, এই আশঙ্কা কেবল পারমাণু বোমা কিংবা হাইড্রোজেন বোমার মতো বিধ্বংসী মারণাস্ত্রের মধ্যেই আজ আর সীমাবদ্ধ নেই; এখন এটা আপাত অস্ত্রহীন এক অসীম অস্ত্রের করতলে বন্দি হতে চলেছে। ভার্চুয়াল স্মার্ট পৃথিবী আর তার সর্বশেষ সংস্করণ আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স-এর অপ্রতিরোধ্য অগ্রগতিতে কুমার দীপের আশঙ্কা- এই এআই প্রযুক্তি একদিন মানব সভ্যতার জন্য ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের মতো অতিকায় দৈত্য হয়ে উঠতে পারে। তখন হয়তো এর স্রষ্টারাই নিজের আঙুলে কামড় দিতে দিতে দৈত্যের ক্ষমতা হরণে নিবেদিত হতে চাইবেন।
"কুমার দীপ একজন কবি, প্রাবন্ধিক, গল্পকার এবং গবেষকও বটে।১৯৭৮ সালের ২৬শে মার্চ, স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে এক ঝড়-জলের রাতে মায়ের অষ্টম সন্তান হিসেবে ভূমিষ্ঠ হন দীপ। নাড়িমাটি : সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া গ্রাম। পড়ালেখা : ভুরুলিয়া নাকবাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় [পূর্বনাম জেএন হাইস্কুল] থেকে এসএসি, শ্যামনগর সরকারি মহসিন ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। উচ্চতর গবেষণা শুরু করলেও পারিবারিক কারণে শেষ করা হয়ে ওঠেনি । পেশা : শিক্ষকতা। উপযুক্ত বইপড়া, গান শোনা এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য- বড়ই প্রিয় তাঁর। ইতিহাসচেতনা, সংস্কৃতিবোধ, নান্দনিকতা, মুক্তবুদ্ধি এবং মানবতার প্রতি সুগভীর অনুরাগই কুমার দীপের লেখালিখির পাথেয়। প্রকাশিত গ্রন্থ : কাব্য : কোথাও কোনো মানুষ নেই; ঘৃণার পিরিচে মুখ; রটে যাচ্ছে আঁধার; মাতাল রাতের চাঁদ; অন্ধকারের মালতিগুচ্ছ; কালান্ধ নূপুরের ধ্বনি। গল্প : ভালোবাসার উল্টোরথে; যে পাখি ফিরতে পারে না নীড়ে। প্রবন্ধ : নান্দনিক শামসুর রাহমান; আধুনিক বাংলা সাহিত্য : পাঠ ও প্রতিকৃতি; অনন্য শামসুর রাহমান ( কলকাতা); বাংলা কবিতায় ঐতিহ্য ও অন্যান্য অনুষঙ্গ; কথাশিল্পের আঙিনায়। শিশুতোষ গল্প : পিয়ালের শিয়াল পোষার শখ। সম্পাদিত পত্রিকা : অর্চি ( কবিতাকাগজ; একটি সংখ্যা বের হয়েছিলো ২০০১ সালে)। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার / সম্মাননা : গীতিকবিতার জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক-ডেইলি স্টার কর্তৃক ‘সেলিব্রেটিং লাইফ এ্যাওয়ার্ড’ ২০১৫ ও ২০১৬। "