স্মৃতি, ঘটনা, জীবন-সবই ইতিহাস। কোথায় ইতিহাস নেই? যা মানুষ দেখে, জীবনচলার পথে যেসব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয় তা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত গন্ডির সীমা অতিক্রম করে বৃহত্তর পরিসরে জায়গা করে নেয়। এই বইটির বিষয়াবলীও তাই। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে একসময় নিতান্ত পেশাদার কাজে যা করেছি, যাদের সংস্পর্শে এসেছি, সাক্ষাতকার নিয়েছি সেসব বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদেশের ইতিহাস, সংগ্রাম, সামাজিক পরিমণ্ডলে এসব মানুষ দেশের সবার পরিচিত ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
এই বইটিতে সাবেক তিন জন রাষ্ট্রপতি যাদের দুইজন সেনাপ্রধান ছিলেন তাদেরসহ কয়েকজন প্রাক্তন সেনাপ্রধান ও জেনারেলের প্রসঙ্গ সংযোজন করা হয়েছে। জেনারেল জিয়াউর রহমানের সাথে সাংবাদিকতা খাতে কখনো পরিচয় হয়নি। কারণ, তিনি যখন নিহত হন তখন আমি মাত্র মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছি। তাঁর সাথে অভিজ্ঞতা আমার সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন। সেটা ছিল মোহগ্রস্ত করার মতো এক ঘটনা। জেনারেল এরশাদের সাথে মিশেছি সবচেয়ে বেশি। দৈনিক পত্রিকায় থাকতে দীর্ঘ সাড়ে চার বছর আমাকে জাতীয় পার্টির বিট কভার করতে হয়েছে। এর উপর জে. এরশাদ ও আমি একই শহরের, একই এলাকার। সেজন্য তাঁকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আতিকের সাথে সম্পর্কটা কয়েকবার তাঁর সাক্ষাতকার নেয়া ও সামাজিক পরিমণ্ডলে যোগাযোগের কারণে। আর যাদের কথা এই বইয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তাদের সবার সাথেই পেশার কারণেই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সেনাবাহিনীতে ছিলাম বলে তাঁরা আমাকে স্নেহের বাঁধনে আবদ্ধ করেছেন।
সামরিক কর্মকর্তা থেকে সাংবাদিক। এমনটি সচরাচর দেখা যায় না। আবু রূশ্দ একসময় ক্যারিয়ার হিসেবে সৈনিক জীবনকে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা তাকে সেই পেশা থেকে নিয়ে এসেছেন সাংবাদিকতায়। আবু রূশ্দ-এর জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ জেলায়। তার পিতা ছিলেন রংপুর কারমাইকেল কলেজের অধ্যাপক। রংপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করার পর অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন ১৩তম দীর্ঘমেয়াদী কোর্সে। ক্যাডেট কলেজে সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলা ও ইংরেজী বিতর্কে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। পরবর্তীতে বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমীতে দীর্ঘ দুই বছরের প্রশিক্ষণকালে ৩য় ও ৪র্থ টার্মে যথাক্রমে কর্পোরাল ও আন্ডার অফিসার এ্যাপয়েন্টমেন্ট লাভ করেন। ১৯৮৫ সালের ২০ ডিসেম্বর কমিশন পান কোর্সের প্রথম দশজনের একজন হিসেবে। সিগন্যাল কোরের অফিসার হিসেবে বেসিক কোর্স ও স্কুল অফ ইনফ্যান্ট্রী এন্ড ট্যাকটিকস্-এ ওডব্লিউ কোর্স কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে স্বাস্থ্যগত কারণে অবসর দেয়া হয় ১৯৮৯ সালে। এল পি আর শেষে তদানীন্তন সরকার বেসামরিক পর্যায়ে সরকারি চাকুরি দেয়ার ব্যবস্থা করলেও তিনি তাতে যোগ দেননি। এরপর চলে আসেন সাংবাদিকতায়। এ পর্যন্ত সিনিয়র রিপোর্টার, বিশেষ সংবাদদাতা ও সহকারী সম্পাদক পদে কাজ করেছেন বেশক’টি প্রথম শ্রেণির দৈনিক পত্রিকায়। টেলিভিশন রিপোর্টিং-এর উপর কোর্স করেছেন ও তাতে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। বাংলাদেশে প্রতিরক্ষা সাংবাদিকতার শুরু আবু রূশ্দ-এর হাত দিয়েই। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে জাতিসংঘ পরিচালিত শান্তি রক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার জন্য বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর আমন্ত্রণে গিয়েছেন সিয়েরালিওন ও দক্ষিণ সুদানে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেয়া ও মিডিয়া টিমের সদস্য হিসেবে ভ্রমণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানী, ইতালী, ফ্রান্স, দক্ষিণ সুদান, সিয়েরালিওন, চীন ও পাকিস্তান। এছাড়াও ঘুরে বেরিয়েছেন তুরস্ক, মিশর, মালয়েশিয়া, ভারত, থাইল্যা- ও হংকং। ২০০৮ সাল থেকে নিজের সম্পাদনায় প্রকাশ করছেন বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিরক্ষা বিষয়ক জার্নাল ‘বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নাল’। পাশাপাশি নিরাপত্তা বিশ্লেষক হিসেবে বিদেশের অনেক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পত্রিকা ও জার্নালে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোর টক শো’তেও অংশগ্রহণ করছেন নিয়মিত। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিবাহিনী ও মানবাধিকার’, ‘ইনসাইড ‘র’-ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার অজানা অধ্যায় (অনুবাদ)’, ‘বাংলাদেশে ‘র’: আগ্রাসী গুপ্তচরবৃত্তির স্বরূপ সন্ধানে’, ‘Secret Affidavit of Yahya Khan on 1971‘, এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তা, রণনীতি ও সশস্ত্র বাহিনী’। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিকে তার অসংখ্য নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।