(১) বেহেশতী জেওর বইটি বাংলাদেশে জাল এবং জয়ীফ হাদিস প্রচারে অন্যতম সেরা ঘৃণ্য ভূমিকা পালন করেছে। এতে শত শত বিদআত এর আমদানি হয়েছে।
(২) ইমাম আহামাদ ইবনে হাম্বাল (র) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “যে বাক্তি নফল রোযা রাখে, নফল নামাজ আদায় করে, ইতিকাফ করে সে বেশি প্রিয় নাকি যে বিদআতি দের মুখোশ উন্মোচন করে সে প্রিয় ?” তিনি প্রত্ততুরে বলেন,
“যে রোযা রাখে, নামাজ আদায় করে সে শুধু নিজের কল্যাণে করে, পক্ষান্তরে যে বিদআতি দের মুখোশ উন্মোচন করে তা সকল মুসলিমের কল্যাণ হয়ে থাকে – এটাই উত্তম ” (মাজমু ফতওয়া, ২৮/২৩১)
(৩) বাক্তির বাক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা করা গীবত । কিন্তু, কোনটি ভুল কোনটি সঠিক বর্ণনা করতে হবে । সঠিক বিষয় থেকে বেঠিক বিষয় পৃথক করা অত্যাবশ্যক। যেমন, মুহাদ্দিসগণ সমালোচিত রাবিদের নাম উল্লেখ করেছেন । বলেছেন, অমুক মিথ্যাবাদী, অমুকের স্মৃতিশক্তি দুর্বল । তাদের উদ্দেশ্য বাক্তির বাক্তিত্তর পিছনে পড়া নয় । বরং উদ্দেশ্য হল সত্য বর্ণনা করা । যাতে মানুষেরা এদেরকে চিনতে পারে, তাদের বর্ণিত হাদিসগুলো ভুল জেনে তাদের থেকে সতর্কতা অবলম্বন করে।
কোনও বাক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিদআতি হলে তা মানুষ কে জানানো অত্যাবশ্যক । তা হলে মানুষ উপকৃত হবে।
(৪) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (র) বলেন, “যে বাক্তি বিদআতিদের সাথে সম্পর্ক করবে, অথবা তাদের প্রতিরক্ষা করবে, অথবা তাদের প্রশংসা করবে, তাদের বই পুস্তক মূল্যবান মনে করবে, তাদের সমালোচনা করাকে অপছন্দ করবে, অথবাতাদের ওকালতি করবে তাকে শাস্তি দেওয়া উচিত। বরং প্রত্যেক বাক্তি বিদআতিদের অবস্থাজানার পরেও তাদের মুকাবিলায় সাহায্য করবে না তাকেই শাস্তি দেয়া ওয়াজিব । কেননা বিদআতিদের মুকাবেলা করা সবচেয়ে বড় ওয়াজিব।” (মাজমু ফাত্ওয়া , খ ০২, পৃষ্ঠা ১৩২)
(৫ ) সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি ও প্রধান বিচারপতি মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম (র) বলেন, " তাবালিগ জামাতে কোনও কল্যাণ নেই । এটি একটি বিদআতি এবং ভ্রষ্ট সংগঠন ।
তাদের বইগুলো শিরক বিদআত , ভ্রষ্টতা , কবর পূজা এবং শিরক এর দিকে আহ্বান এ ভরপুর । " (ফাতওা ও রিসালা সমগ্র , ০১/২৬৭, ০২ জুলাই , ১৯৬২ ইং )
(৬ ) সিরিয়ার বিখ্যাত হাদিস বিশারদ নাসের উদ্দিন আলবানি (র) বলেন, " তাবালিগ জামাত কুরআন সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীন মানহাজের / পথের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই তাদের সাথে বের হওয়া জায়েজ নয় । "
(আল ফাতওা আল ইমারাতিয়াহ)
(৭ ) সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আব্দুল আজিজ ইবনে বায (র) বলেন, " তাবালিগ জামাতের আকিদা (বিশ্বাসগত ) বিষয়ে সঠিক জ্ঞান নেই । তাই তাদের সাথে বের হওয়া জায়েজ নয় । "
(আদ দাওাহ আদ সাউদিয়াহ, ১৪৩৮ সংখ্যা, ১৯৯৩ ইং )
(৮ ) দ্বীন এর কোন বেপারে দলীল দেয়ার ক্ষেত্রে শুধু 'আল-হাদিস' বলে দলীল দেয়া জায়েজ নয় । হাদিস গ্রন্থের নাম এবং নাম্বার উল্লেখ করতে হবে ।
যদি দলীল এর ক্ষেত্রে শুধু 'আল-হাদিস' বলা হয়, তাহলে তা জাল হতে পারে । যদি হাদিস টি সহিহ না হয়ে জাল হয় তাহলে তা মুহাম্মাদ (সঃ) এর নামে মিথ্যে বলার শামিল ।
মুহাম্মাদ (সঃ) এর নামে মিথ্যা আরোপ করার / বলার পরিণাম সম্পর্কে তিনি বলেছেনঃ
"যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কোন কথা আরোপ করল যা আমি বলিনি, সে জাহান্নামী । " (আল বুখারী , কিতাবুল ইলম, হাদিস নাম্বার : ১০৯)