(১) বই টি শত শত জাল হাদিসে ভরপুর ।
(২) দ্বীন এর কোন বেপারে দলীল দেয়ার ক্ষেত্রে শুধু 'আল-হাদিস' বলে দলীল দেয়া জায়েজ নয় । হাদিস গ্রন্থের নাম এবং নাম্বার উল্লেখ করতে হবে ।
যদি দলীল এর ক্ষেত্রে শুধু 'আল-হাদিস' বলা হয়, তাহলে তা জাল হতে পারে । যদি হাদিস টি সহিহ না হয়ে জাল হয় তাহলে তা মুহাম্মাদ (সঃ) এর নামে মিথ্যে বলার শামিল ।
মুহাম্মাদ (সঃ) এর নামে মিথ্যা আরোপ করার / বলার পরিণাম সম্পর্কে তিনি বলেছেনঃ
"যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কোন কথা আরোপ করল যা আমি বলিনি, সে জাহান্নামী । " (আল বুখারী , কিতাবুল ইলম, হাদিস নাম্বার : ১০৯)
(৩) মুহাম্মাদ (সঃ) এর নামে মিথ্যে আরোপ করার / বলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন এবং ঘৃণ্য ভূমিকা পালন করেছে কুরআন ও হাদিসের শিক্ষার বিষয়ে অজ্ঞ এসব ধার্মিক মানুষেরা ।
শয়তান এদেরকে বুঝিয়েছে, আমরা তো মুহাম্মাদ (সঃ) এর পক্ষেই মিথ্যে বলছি । এ সকল মিথ্যে ছাড়া মানুষদের কে হেদায়েত দেয়া সম্ভব নয় । তাই এটা ভালো কাজ ।
শয়তান এদেরকে বুঝতে দেয়নি যে, তাদের চিন্তা ভুল । মিথ্যে ছাড়া মানুষকে হেদায়াত সম্ভব না একথা ভাবার অর্থ, আল্লাহর ওহী মানুষকে হেদায়াত করতে সক্ষম নয় ।
কুরানুল কারীম এবং বিশুদ্ধ হাদিস তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে । কি জঘন্য, নোংরা এবং বিকৃত চিন্তা (!!)
(৪) মুহাম্মাদ (সঃ) এর নামে মিথ্যে আরোপ করার / বলার মাধ্যমে এসব অজ্ঞ ধার্মিক মানুষেরা মূলত শয়তানের খেদমত করছে। নফল ইবাদতের 'মনগড়া সওয়াব' কল্প কাহিনী মুসলিম উম্মাহ কে 'ফরয' দায়িত্ব ভুলিয়ে দিয়েছে।
অগণিত 'মনগড়া আমল' মুসলমানদেরকে কুরআন এবং হাদিস বর্ণিত 'কাজ এবং দায়িত্ব' থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
(৫) "ওহীর পক্ষে মিথ্যে বলার" কারণেই যুগে যুগে ধর্ম বিকৃত হয়েছে। এ কারণে মহান আল্লাহ বলেন :
"বল হে কেতাবিগণ, তোমরা তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে অন্যায় ভাবে বাড়াবাড়ি করও না ; এবং যে সম্প্রদায় পথভ্রষ্ট হয়েছে, অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে এবং সরল্ পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করো না " (সুরা মাইদা, আয়াত ৭৭)
(৬) সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আব্দুল আজিজ ইবনে বায (র) বলেন, " তাবালিগ জামাতের আকিদা (বিশ্বাসগত ) বিষয়ে সঠিক জ্ঞান নেই । তাই তাদের সাথে বের হওয়া জায়েজ নয় । "
(আদ দাওাহ আদ সাউদিয়াহ, ১৪৩৮ সংখ্যা, ১৯৯৩ ইং )
(৭) সিরিয়ার বিখ্যাত হাদিস বিশারদ নাসের উদ্দিন আলবানি (র) বলেন, " তাবালিগ জামাত কুরআন সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীন মানহাজের / পথের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই তাদের সাথে বের হওয়া জায়েজ নয় । "
(আল ফাতওা আল ইমারাতিয়াহ)
(৮) সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি ও প্রধান বিচারপতি মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম (র) বলেন, " তাবালিগ জামাতে কোনও কল্যাণ নেই । এটি একটি বিদআতি এবং ভ্রষ্ট সংগঠন ।
তাদের বইগুলো শিরক বিদআত , ভ্রষ্টতা , কবর পূজা এবং শিরক এর দিকে আহ্বান এ ভরপুর । " (ফাতওা ও রিসালা সমগ্র , ০১/২৬৭, ০২ জুলাই , ১৯৬২ ইং )