সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই। সেই মানুষ যদি নিজের, পরিবারের, দেশ ও সমাজের সার্বিক উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে মানবসভ্যতাকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে আগে তাকে বড় হতে হবে। বড় হতে হবে উন্নত জীবনাদর্শে, আত্মমর্যাদার মূল্যবোধে, আত্মত্যাগ- তিতিক্ষায়, অয়োময় অধ্যবসায়ে, দৃঢ়চিত্ততায় ধৈর্যধারণে, সদালাপ-সদাচরণে, বিনয়- বদান্যতায়। আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান ব্যক্তিত্বের জীবনসাধনায় সাফল্য সুনিশ্চিত হতে হলে তার মধ্যে থাকা চাই প্রবৃদ্ধির প্রেরণা আর অনুসরণীয় আদর্শের অনুভব উপলব্ধি। বড় হতে চাওয়ার বয়সে বেড়া নেই ধনে নয় মানে, মনে নয় মননে, করিৎকর্মায়, মুক্তবুদ্ধি বিচার বিবেচনায় ও বিশ্বাসে বড় হওয়া চাই। বড় হতে চাইলে বড় হওয়া যায়Ñ এর জন্য উদার উন্মুক্ত উপলব্ধি ও প্রদীপ্ত প্রত্যয় প্রয়োজন।
অতি আধুনিকতার অনুপ্রবেশে, বিজ্ঞানের বদৌলতে, টেকনোলজির অভূতপূর্ব প্রসার-প্রচারে বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। মানুষের মনে নৈতিকতার সুবচন, বাণী চিরন্তনীর চিরায়ত বাক্যাবলি পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা কোনো কালেই ফুরিয়ে যাওয়ার নয়। সংসার- দপ্তর-কর্মজীবনের পরতে পরতে সংকট সন্ধিক্ষণে যেসব মহৎ মহাজন বাক্য ও বাণী মনে সাহস জোগায়, আত্মমর্যাদাবোধে উদ্বুদ্ধ করে, আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হওয়ার মন্ত্রণা দেয় স্থিতধী হতে অনুপ্রেরণা জোগায় সেসবের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে এসো বড় হতে শিখির ছাতার নিচে, মলাটের মধ্যে। এই সমাজে একসময় শিক্ষকেরা ছিলেন আদর্শ। শিক্ষকের দৃঢ়চিত্ত চরিত্রবল শিক্ষার্থীদের সামনে অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে থাকত। এখনশুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয় অধিকাংশ অবয়বে আদর্শ স্থাপনের ও অনুসরণের মাত্রায় মরাকাটাল চলছে। আলোকিত মানুষ তৈরির আকিঞ্চন আকাক্সক্ষারা এ গ্রন্থ গঠনে ও পঠনের প্রত্যাশাকে উজ্জীবিত করেছে।