প্রায়ই আমি ছেলেবেলায় ফিরে যাই কল্পনায়। আমাদের ফেলে আসা দিনগুলির কথা খুব মনে পড়ে। কি মধুর ছেলেবেলা ছিল আমাদের! এখন আমরা তিনজন তিন জায়গায়, কিন্তু মনটা পড়ে থাকে বাড়িতে, তোদের কাছে। তোদের জন্য আমি কিছুই করতে পারিনি। তোদের কিছুই দিতে পারিনি। তবে, তোদের আমি বড্ড ভালোবাসি। পরম করুণাময় তোদের সুখে রাখুন । দূর থেকে এই আশীর্বাদ করি।
১
অন্ধকার রাত। যাকে বলে প্রচণ্ড অন্ধকার রাত। পরাগ মামা ঘরে বসে আছেন। কোনো কথা বলছেন না। চুপচাপ কিছু একটা ভাবছেন। আমরা ফেল্টু বাহিনীর চার সদস্য পরাগ মামার ঘরে চুপচাপ বসে আছি। পরাগ মামা ভাবছেন, আমরাও ভাবছি। পরাগ মামা পায়চারি করা শুরু করলেন, আমরাও পায়চারি করতে লাগলাম। পরাগ মামা গালে হাত দিয়ে বসে পড়লেন। আমরা চারজনও গালে দিয়ে বসে পড়লাম। পরাগ মামা দরোজার দিকে ভয়ে ভয়ে তাকালেন। আমরাও ভয়ে ভয়ে দরোজার দিকে তাকালাম। কিছু সময় পর পরাগ মামা ওপরের দিকে চোখ রাখলেন। আমরাও তাই করলাম।
পরাগ মামা ভয় পাওয়ার মতো করে বললেন, এই ফেল্টু ভাগ্নেরা তোরা কি জানিস আজ কি রাত?
আমরা ফেল্টু বাহিনীর সদস্যরা ভয় পেয়ে গেলাম।
আমি বললাম, আজ কী রাত মামা?
পরাগ মামা ইশারায় ঘরের দরজা বন্ধ করে দিতে বললেন, মন্টু দ্রুত দরজা বন্ধ করে দিলো। পরাগ মামা চোখ বড় বড় করে বললেন, আজ হচ্ছে অমাবস্যার রাত। বলতে পারিস ভয়ঙ্কর অমাবস্যার রাত। দেখছিস না চারদিক কেমন অন্ধকার। অমাবস্যার রাতে বাইরে বের হলে কোনো কিছু চোখে দেখা যায় না। অমাবস্যা রাত তোদের মতো ছোটদের জন্য ভয়ঙ্কর রাত। এই রাতে সব দুষ্টু ভূতরা বের হয়। বিশেষ করে ভয়ঙ্কর ভূতরা অন্ধকার অমাবস্যা রাতে রাজা সেজে যায়। তারা অমাবস্যা এলেই খুশি। রাতভর ছুটে বেড়ায় তারা। এই রাতে তারা ভয় দেখায় সবচেয়ে বেশি।
শাহআলম সাজু সাংবাদিক ও সাহিত্যিক বিশ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত। লেখালেখি করছেন দুই দশক ধরে। বর্তমানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার এর স্টাফ রিপোর্টার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে। মোট প্রকাশিত বই ৫০টি। স্ত্রী ফিরোজা। পুত্র স্বপ্নীল। কন্যা সারা। বাবা প্রয়াত মো. সেকান্দর আলী। মা সাহেরা বেগম। জন্ম টাংগাইল জেলার সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। স্বপ্ন আলোকিত সখীপুর উপজেলা গড়া।