কবির প্রথম কাজই হচ্ছে ভাষার বিশুদ্ধি রক্ষার মাধ্যমে ভাষার প্রকাশক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া। তিনি তৈরি করবেন নতুন নতুন শব্দব্যঞ্জনা। যা দিয়ে সৃষ্টি করবেন কবিকৃত্য।
কবির কাছে কবিতা মানেই নিসর্গের সংলাপ, সীমানাবিহীন অন্ধকারে নির্মম জ্যোতির ব্যাপ্তি কিংবা চৈতন্যের উত্থান-পতন। তাঁর কাছে কবিতা জন্মভূমির প্রিয় মৃত্তিকার গন্ধ, ধুলো-ওড়া প্রান্তর, সবুজ বৃক্ষলতা। মৃত্যুর মতো আকাঙ্ক্ষিত উচ্চকিত অথচ শব্দহীন। অঘ্রানের হলুদ স্বপ্ন, একটি আর্তনাদ, একটি অন্তর্গত ক্রন্দনধ্বনি। তাঁর কাছে কবিতা একটি দহন, একটি অন্তর্নিহিত অথচ বিশাল ব্যাপ্তিময় অগ্নিপথ, দৃপ্ত উচ্চারণ।
কবিতার মূল লক্ষ্য নির্ভেজাল সত্য, বিবৃতি বা বক্তৃতা নয়। এ গ্রন্থের কবিতাগুলোয় মানবিক ও শারীরিক প্রেম একে অপরের ওপরে আছড়ে পড়েছে সময়ে-অসময়ে। কখনো বিরহ, কখনো প্রকৃতি, কখনো সমাজ, কখনো মানুষকে অবলম্বন করে স্বদেশ ও স্বকালকে জড়িয়ে, শিল্প ও জীবনের মৌল দায় নিয়ে কবিতার বাহনে চেপে আরো হার্দ্র, গাঢ়, তন্ময়, কথোপকথনে ঘরোয়া সম্বোধনে অন্তস্পর্শী, দ্যুতিময় হয়ে পঙ্ক্তিগুলো বয়ে গেছে কুলকুল করে স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার জগতে।
দিনান্তে ভিক্ষার ঝুলিতে প্রকৃত চালের সঙ্গে কিছু কাঁকর তো থাকবেই। ধরা যাক, অর্ধেকটাও যদি বাতিলের বান্ডিলে বেঁধে রাখা হয়, ক্ষতির কিছু দেখি না আমি। অর্ধেক কেন! বলি, সিকিটুকু টিকলেও বলা যায় অঢেল, পর্যাপ্ত।
Report incorrect information