কবিতা তুমি চিঠি হও
বহুদিন পর যখন ফিরেই এলে
যতি চিহ্নের অপপ্রয়োগ কেন?
ইচ্ছে হয় তোমাকে দেখি
সময়ের নিষেধাজ্ঞা ভেঙ্গে
প্রতিদিন দেখি
তোমার মনের গভীরে সদ্য খনন করা দিঘির পাড় ঘেষে
ঝোপঝাড়ের আড়ালে
অথবা জলের ওপর দীর্ঘ ছায়াফেলা
বিশালদেহী বৃক্ষের মগডালে বসে।
আমাকে আপন-পর করে দেখা অথবা নেয়া
যেকোনো প্রস্তাব অনুমোদনের সিদ্ধান্ত একান্ত তোমার
ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে
বিগত দিনে তোমাকে নিশ্চয় এড়িয়ে যাইনি
অথবা ভ্রুক্ষেপ করিনি কোনো অজুহাতে
ফেলে আসা দিনগুলো! দীর্ঘশ্বাস ছাড়া কুড়িয়ে পাওয়ার আশা নস্যি।
তুমি এলে
অথচ, নিঃসঙ্গতা সেই আগের মতো
ঝলসানো রোদের ঠোঁটচেরা হাসিতে বন্ধুত্বের আহ্বান
হাত বাড়াতেই আমিও বেমালুম লুফে নিলাম।
ভীষণ ভয়ও হয়, যদি হারাই!
সাহস যুগিয়েছো বলে একবার আমিও আপন করে ডাকি?
‘প্রেয়সী! প্রিয়তমা!’
পাশে থাকো
অথবা, রাখো তোমার মনের জমিনে
গাঙ ভেঙ্গে নেবার আগে কোনো স্থায়ী বন্দোবস্তে
তোমাকে নিয়েই
আমার যত অযুত-নিযুত সময় ক্ষেপণ
আজও অধরা অস্পর্শা
বোধ ও বৃত্তের বাহিরে
তবু ভাবছি, নতুন রসায়নে, নিউটনীয় তত্ত্বে
তুমি জানো।
ইদানিং তোমার সেই লাবণ্যময় হলুদ মিশেল গ্ল্যামারে
মরচে প্রলেপ জমে আবছা আঁধার ভর করেছে
ভেতরে পুড়ছো, পোড়াচ্ছো; বলছো না
ফরমান জারি হলে
প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে প্রকাশ কর ‘বেশ আছি!’
প্রকাশিত সত্যের আড়ালে কী ডাহা মিথ্যে!
আমি তোমার মনের গভীরে প্রবেশের অনুমতি চাইছি
শব্দের বুননে থিসিস পেপারে ট্যাগ করে
গভীর খাদের কিনারে ভেড়ার সবুজ সংকেত দিও
কবিতা তুমি চিঠি হও, বলো তাকে।
আমি আছি। তাকেও পাশে চাইছি, অথবা পাশাপাশি।
ফাঁদ নয়, বন্ধুত্বের গভীর জালে
নতুন আবরণে, সংগ্রামে, সমরে
হাতে হাত রেখে দুজনেই জিতি।