Category:সমকালীন উপন্যাস
সারাংশ*
একটা গোলাপ গাছে কলি আসতে যদি সেই কলিটাকে ছিঁড়ে ফেলা যায়, তবে তার আসল সৌন্দর্য কতটা মারাত্মক সুন্দর হতে পারতো তা কখনোই আর বুঝতে পারা সম্ভব নয়! ঠিক তেমনি আমাদের দেশের গ্রামীণ সমাজের মেয়েরা একটু সাবালিকা হতে না হতেই তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। মেয়েটা সুন্দরী আর হাতে পায়ে লম্বা হলে তো কোনো কথাই নেই! বিয়ে হয়ে গেলে ব্যাস, যা কিছু হয়ে যাক না কেন মেনে চলো মানিয়ে চলো। কত শত হাজারো মেয়ে আছে যারা বুঝতে পারে বিয়েটা ভুল একটা মানুষের সাথে হয়েছে। নিজে কষ্ট পেয়েও তারা বাবা-মা, পরিবার,সমাজ সবার চিন্তা করে সেই স্বামীর সাথেই থেকে যায়। মনের মধ্যে একটাই ভয় কাজ করে স্বামীর সংসার ছেড়ে গেলে বা ডিভোর্সি হলে সমাজে সে স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকতে পারবে না! পরিবারের সম্মানের চিন্তা করে তারা বুকে পাথর বাঁধে! একমাত্র তারাই জানে বেঁচে থেকেও তারা কতটা মৃত! তারা প্রতিদিন মরে, প্রতিটা মুহূর্তে মরে। অথচ বড় হয়ে এই মেয়েগুলোই হতে পারতো সমাজ বা দেশের বিশেষ কেউ!
তবে, সমাজের লাল চোখে তাকানোর সাহস কেউ কেউ রাখে। নীরা পেরেছিল সমাজ, পরিবার সবার চিন্তা বাদ দিয়ে একটুখানি নিজেকে ভাবতে। সে মুক্ত করেছিল নিজেকে এক ভয়ার্ত অসুস্থ সম্পর্ক থেকে। নীরা নিজেই নিজের একটা বড় ছায়া হয়েছিল। সে উপলব্ধি করতে পেরেছিল, "যদি কেউ কাউকে মূল্যায়ন না করে তবে তার কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করে নেওয়া ভালো। এটা ভাবা ঠিক না সে মূল্যহীন। আসলে তাকে মূল্যায়ন করার ক্ষমতাই তার নেই"।
স্পষ্টভাষী, সুন্দরী, সাহসী, মায়াবী এই মেয়েটা কি শেষ পর্যন্ত আদৌ একটা সুন্দর জীবন পেয়েছিল? নাকি আবারো হেরে গিয়েছিল সে তার ভাগ্যের কাছে......?
Report incorrect information