শহর একটা শ্রম বেচা-কেনার বাজার, বিরাট কর্মজীবী হোস্টেল, মুরগির ফার্ম বললেও ঠিক আছে। এইখানে মানুষের নৈর্মিত্তিক লড়াইয়ের গল্পগুলা পুরানা আর বোরিং, কোন গ্ল্যামার নাই। এই শ্রম বেচা-কেনার মধ্যস্থতা করে যে দল, যারা ডেস্ক আর ফাইল সামলায়, যারা বাচ্চার খরুচে শৈশব আর নিজেদের ব্যায়বহুল বার্ধক্যের প্রস্তুতি নিতে থাকে, সেই দলের একজন হয়ে নিজের পরিচয় আর ঠিকানা তৈরির অনির্বচনীয় বাসনা ব্যক্ত করে গল্প বলতে শুরু করে শরীফ। বাপের জমি বিক্রির টাকায় উন্নয়নবিদ্যা পড়া শরীফ চামে স্বল্প মেয়াদে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার একটা চাকরিও জুটিয়ে নেয়। শহরের বিশাল এক অচেনা জনগোষ্ঠীর লড়াই আর সুখ দুঃখের অংশীদার হয়ে ওঠা তার চয়েস যদি নাও হয়, টিকে যাওয়াটা তার সাফল্য। আত্মকেন্দ্রিক শরীফের বলার মতো কোন গল্প না থাকলেও, আছে দেখার মতো একটা উদাম গ্রাম্য দৃষ্টি। একদিকে বিদেশী উন্নয়ন গবেষণা সংস্থায় চাকরির দেমাগ আর অন্য দিকে শহরের বস্তিবাসী মানুষের জীবনের লড়াই ও আকাঙ্ক্ষা, তারে জড় আর অজড়ের ডাইলেক্টিকের মধ্যে ফেলে দেয়। এক তর্কবাগিশ বৃদ্ধ মাদ্রাসার শিক্ষকের ফাটমেইট হয়ে মীমাংসিত সকল বিষয়েই পুনর্মূল্যায়ন করতে শুরু করে শরীফ। তারও মনে হতে থাকে নর্মেটিভ সকল লেসনগুলা আনলার্ন করতেই চলে যাবে একটা জীবন। নব্য-উদারনৈতিক শহর ব্যবস্থাপনার ক্রুয়েল ফরমুলা সে বুঝতে শুরু করে, শহরের মাটি-পানি-গাছপালা সব দখল করছে ধনী লোকেরা, চাই বা না চাই এই প্রভাব পড়ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আর সম্পর্কে। ঝামেলা এড়িয়ে চলা শরীফ টের পায় যে, রাজনীতি তো আমাদের শরীরে। একজন স্রেফ পর্যবেক্ষকের ভূমিকাতে সে আর থাকতে পারে না, নিজের গল্পের নায়ক হয়ে উঠতে চায়। এই হয়ে উঠতে চাওয়াই গল্পের পরিণতি ঠিক করে দিতে থাকে।
ফ্যালফ্যাল করে মানুষ দেখতে থাকা আর পাবলিক স্পেইসে আলাপ শুনতে থাকা শাহরিয়ার ফরহাদের স্বভাব। এই স্বভাব দোষেই তিনি দৈনন্দিন জীবনের গল্প আর ফটো সংগ্রহ করে থাকেন। ভারবাল এক্সপ্রেশনিস্ট (Verbal expressionist) ফরহাদ বন্ধু আর পরিচিত মহলে গল্প-আড্ডায় প্রচুর কথা বলেন। সুযোগ পেলেই তিনি নিজের গল্প শোনাতে চান। বেশি বলতে গিয়ে কম লিখতে পারেন। নৃবিজ্ঞান ও পাবলিক পলিসি বিষয়ে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন। এই সার্টিফিকেট কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন গবেষণায় বিভিন্ন মেয়াদে কাজ-বাজ করে খোরাকি সংগ্রহ করে থাকেন। কাজের সূত্রেই দেশের বিভিন্ন জনপদে বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষের সাথে আলাপ করার সুযোগ পান। গল্প বানাতে এই সকল অভিজ্ঞতা তাকে সহায়তা করে। কথা বলার মানুষ কমে গেলে তিনি বই পড়েন বা সিনেমা দেখেন। টেকনোলজির খোঁজ রাখেন মূলত কম বয়সী পোলাপানের সাথে আলাপ জমানোর জন্য। নিয়মিত লিখতে চান এবং আরো অনেক মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে চান।