সবচেয়ে ভালো লেগেছে ‘শশক’ গল্পটি। ঘন অন্ধকার মাদুলি হাওরে কোষা নৌকা নিয়ে ঘুরছেন সরওয়ার পাঠান, উদ্দেশ্য শনচালার ফাঁকে ফাঁকে চড়তে বেড়ানো খরগোশ শিকার। টর্চের আলোয় জ্বলে ওঠা লাল চোখ - সাথে সাথে গুলি। কিন্তু এই অভিযানের এন্ডিংটা হয় ট্রাজিক।
খরগোশ (Hare) মারতে গিয়ে সরওয়ার পাঠান ভুল করে মেরে বসেন এক মা শশককে (Rabbit)। খরগোশের বাচ্চারা জন্মের পরপরই স্বাবলম্বী, কিন্তু শশকের বাচ্চারা অসহায়, চোখ না ফুটা পর্যন্ত সম্পূর্ণ মায়ের ওপর নির্ভরশীল।
মা শশকের লোম ওঠা সাদা পেট দেখেই ঘটনা আন্দাজ করে নেন লেখক। আপ্রাণ চেষ্টায় খুঁজতে থাকেন বাসা ও বাচ্চা। অসহায় বাচ্চাগুলো কি শেষমেশ বেঁচে যায়? নাকি তীব্র শীত আর ক্ষুধার ফলে পিঁপড়ার খাবার হয়?
বইটির বেশিরভাগ গল্পই আমার পড়া আছে। যেমন কোড়া শিকারীর সাপের কামড়ে মৃত্যু নিয়ে লেখা ‘শিকারী’, গ্রামে ভয়ের উপদ্রব করা বিশাল চোখের কালাচ নিয়ে লেখা ‘ভয়ালদৃষ্টি’, বাচ্চা চুরি করা মেছোবাঘের গল্প ‘শিশুলোভী পিশাচ’, মানুষের ভুলে মানুষের শত্রু হয়ে ওঠা ‘শুশুকের প্রতিহিংসা’। এই প্রতিটি গল্পই আলাদা আলাদাভাবে আলোচনার দাবীদার যা আমি আগের রিভিউগুলোতে করেছিও।
এছাড়া আছে লেখকের সঙ্গী ‘ফাইটার’ এবং প্রিয় বনবিড়াল এলসাকে বিসর্জন দেয়া নিয়ে লেখা ‘এলসা আমার এলসা’।
‘রাজবাড়ির পাহারাদার’ মূলত একটি আদিভৌতিক গল্প। অবশিষ্ট গল্প ‘এফরান ও মেছোবাঘ’ লেখকের প্রথম বড় জন্তু শিকারের গল্প।
বইটি ছোট, মাত্র ৯৬ পৃষ্ঠা। ভোরবেলা এক বসাতেই শেষ। ‘শিকার’ - সরওয়ার পাঠান। রেটিং ৪/৫।