উচ্চতর ডিগ্রি বা পিএইচডি করার জন্য একজন শিক্ষার্থীর প্রথমেই প্রয়োজন হয় বিষয়ের ওপর একটি সারসংক্ষেপ বা প্রস্তাবনা (ঊীঢ়ড়ংব/ঝুহড়ঢ়ংরং) তৈরি করে তা তত্ত্বাবধায়কের নিকট জমা দেয়া। প্রায়ই দেখা যায় একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে বিষয়ের ওপর একটি সঠিক ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাবনা তৈরি করা দুরূহ হয়ে পড়ে। পিএইচডি গবেষণার মতো জটিল একটি পদ্ধতির সূচনলাগ্নে এধরনের পরিস্থিতি একজন শিক্ষার্থীকে হতাশ করে দেয়। ডক্টরেট করার আকাক্সক্ষা বা প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। এমনকি বার বার প্রস্তাবনাকে সম্পাদনা করতে হয়। তারপরও কিভাবে শুরু করতে হবে তার সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয় না। এমনি দোদুল্যমান অবস্থায় অনেকে আশাহত হন।
প্রস্তাবনা প্রণয়নের সহজ উপায় হচ্ছে, গবেষক যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজবেন সে সকল প্রশ্নের মোটামুটি একটি তালিকা প্রস্তুত করা। এরপর সে অনুসারে বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকাশনা, অভিসন্দর্ভ, সামাজিক মাধ্যম, সরকারি ও বেসকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করবেন। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বা ক্ষেত্রবিশেষ সাক্ষাৎকার নিবেন। এভাবে তিনি সম্ভাব্য বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করবেন।
বাংলা ভাষায় সম্ভবত এধরণের বই এরআগে কখনও প্রকাশিত হয়নি। যে সকল শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা বা গবেষণায় নিয়োজিত হবেন তাদের জন্য প্রাথমিকভাবে পুরো বিষয়টি কী প্রক্রিয়ায় করবেন তার একট দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে এই বইতে। লেখক জার্মানিতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত উচ্চশিক্ষাসংক্রান্ত গবেষণায় নিয়োজিত। সঙ্গতকারণে লেখকের গবেষণা ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ লেখা এই বইটি শিক্ষার্থীদের একটি পথনির্দেশক সূত্র হিসেবে কাজে আসবে বলে বিশ্বাস করি।