শত শত বছর পুরনো এক রক্তাক্ত নাম। ভ্যাম্পায়ার হলো এমন এক অর্পাথিব প্রাণী, যা তার শিকারের দেহে শ্বদন্ত বিদ্ধ করে রক্ত চুষে খায়। ‘ভ্যাম্পায়ার’ শব্দটি শুনলেই আমাদের মানসপটে ভেসে ওঠে রক্তপিশাচ এবং এদেরকে ঘিরে অগণিত রহস্য ও মিথের কথা!
মানবসভ্যতায় ভ্যাম্পায়ারের প্রতি বিশ্বাস অনেক প্রাচীন। বহু পৌরাণিক লোকগাঁথায় রক্তপিপাসু অপদেবতার আখ্যান প্রচলিত আছে। একেক অঞ্চলে, একেক নামে, একেক রূপে ভ্যাম্পায়াররা পরিচিত। হাজার বছর ধরে বিশ্বের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভ্যাম্পায়ার মিথগুলো এখনও কৌতুহলী মানুষের আগ্রহের বিষয়।
রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ারদের নিয়ে মানুষ যতটা অনুসন্ধিৎসু হয়েছে, অন্য কোনো পিশাচকে নিয়ে ততটা হয়নি। ভ্যাম্পায়াররা বর্তমান হরর সাহিত্য এবং পপ কালচারের অন্যতম জনপ্রিয় আইকন। এখনও পর্যন্ত এদেরকে নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য গল্প-উপন্যাস, নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র-টিভি সিরিজ।
কিন্তু কীভাবে এলো প্রথম ভ্যাম্পায়ার?ভ্যাম্পায়ার মিথের উৎপত্তি হলো কিভাবে? ভ্যাম্পায়ার মিথগুলি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার কারণ কী? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—ভ্যাম্পায়ার বলতে সত্যিই কি কোনো কিছুর অস্তিত্ব আছে?
শত শত বছর ধরে এসব প্রশ্ন বারংবার জেগেছে মানুষের মনে।
এসকল প্রশ্নের উত্তরই বইজুড়ে আমরা অনুসন্ধান করবো। ভ্রমণ করবো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, ডুব দেবো ইতিহাসের পাতায়। সেই সাথে জানবো আমাদের এই রহস্যঘেরা পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা দুর্দান্ত ও লোমহর্ষক কিছু অ্যাখান; পুরাণ, কিংবদন্তি, উপকথা, লোককাহিনি, ইতিহাস, সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞানের আলোকে আসুন পরিচিত হই রক্তপিপাসুদের সাথে…
চলুন, শুরু করা যাক আমাদের এই রক্তাক্ত যাত্রা... রক্তপিপাসুদের সন্ধানে...অজানার অন্বেষণে…
মাহমুদুল হাসান জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। হরর, সায়েন্স ফিকশন এবং নন ফিকশন জনরা তার সবচেয়ে প্রিয়। তার প্রিয় লেখক স্টিফেন কিং, এছাড়া পছন্দের লেখক তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় ও হুমায়ূন আহমেদ। ছোটোবেলা থেকেই বই পড়তে প্রচণ্ড ভালোবাসেন এবং সেই ভালোবাসা থেকেই লেখালেখির শুরু। ভালোবাসেন বিজ্ঞান, ইতিহাস, মিথ, ধর্মতত্ত্ব, অতিপ্রাকৃত ও আধিভৌতিক বিষয়ে আলোচনা ও পড়ালেখা;তার লেখায় এই বিষয়গুলি বারবার উঠে আছে।সামনে এই বিষয়গুলো নিয়েই লেখালেখির ইচ্ছা আছে। এছাড়া ভালোবাসেন নতুন কিছু জানতে এবং জানাতে। মৌলিক নন ফিকশন ‘ভ্যাম্পায়ার পুরাণ: রক্ত পিপাসুদের অ্যাখান’ তার প্রথম গ্রন্থ। কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় প্রকাশিত হয় মুহম্মদ আলমগীর তৈমূরের সঙ্গে যৌথভাবে সম্পাদিত ‘বুগিম্যান থেকে জুজু : মিথ, ভয়, ও মনস্তত্ত্ব’ বইটি। এ পর্যন্ত দুই বাংলার একাধিক ম্যাগাজিন ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে প্রবন্ধধর্মী লেখা।এছাড়া তার সম্পাদিত ও লেখা প্রকাশিতব্য বইয়ের সংখ্যা একাধিক।