‘ডিভোর্স লেটার’ উপন্যাসের মূল ভাবধারাই হলো ডিভোর্সকে ‘ না’ বলা। এটি দু'জন নারী ও পুরুষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের গল্প। ডিভোর্স মানুষের জীবনে একটা ট্রমাটিক সিচুয়েশন। এই উপন্যাসের চরিত্র মোনা এবং আজাদ,দু'জনেই একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো।কিন্তু বিয়ের পর ধীরে ধীরে সব যেন বদলে যেতে থাকে। আজাদের মধ্যে প্রকাশ পেতে থাকে প্রচন্ড আধিপত্যসুলভ আচরন যা পারিবারিক আবহে দিন দিন রূঢ়তায় পরিনত হয়। অন্য দিকে ব্যক্তিত্বশীল এবং অন্তর্মুখী মোনা একটা সময়ে এসে বুঝতে পারে এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে প্রচন্ড এক তান্ডবের মুখোমুখি হতে হবে। যার ফল হবে এই সংসার ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া না হয় অপমানিত হয়ে এই সংসারেই থেকে যাওয়া। সমাজ,সংস্কার আর সম্মান, এই তিনটি জিনিস সুশিক্ষিত এবং স্বাবলম্বী মোনাকেও আটকে রেখেছিল । দু’ জনের মধ্যেকার ইগো দিনে দিনে তৈরি করে সম্পর্কের মধ্যে শীতলতা ও বিচ্ছিন্নতা। দাম্পত্য জীবনে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, অপমান আর সব কিছু মুখ বুজে হজম করার চাপ একটা সময়ে মোনাকে প্রচন্ড সাহসী ও কঠিন করে তোলে। সে মনে করে সন্তানদের জন্য তার যে দায়িত্ব ছিল, তা শেষ হয়েছে। এবার সে মুক্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। আটাশ বছর সে যতোটা অপমান,অসম্মান আর অনাদর হজম করেছে - সব কিছু সে এখানেই ঝেড়ে ফেলে দিয়ে চলে যেতে চায়। এই সময়ে সে একদিন তার বাবার বাড়ি চলে যায় নীরবে। একটা ডায়েরি রেখে যায় আজাদের আলমারিতে একটা চিরকুট সহ। ওখানে কিছু কথা বলা ছিল। তারপর আইনজীবীর মাধ্যমে ডিভোর্সের নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি নেয় মোনা।
কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে কী ডিভোর্স হয়েছিল?নাকি দু'জন দু'জনের ইগো বিসর্জন দিয়ে আবার এক হতে পেরেছিল? ডিভোর্স এবং তার পরবর্তী মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন নিয়ে পাঠকদের ভালো লাগার মতো একটি উপন্যাস এটি।
সৈয়দা কানিজ ফাতেমা। ১৩ই ডিসেম্বর, কুমিল্লা জেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার লেখালেখির নেশা শৈশব থেকেই। বাবা এবং মা দু'জনেই লেখার বিষয়ে অনুপ্রেরণা যোগাতেন। শিক্ষাজীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস নিয়ে মাস্টার্স করেন এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (IUB) থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এর উপর এমবিএ করেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ (IBA) থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এবং লিডারশীপ এন্ড ম্যানেজারিয়েল কম্যুনিকেশন্স এর উপর প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংকের মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি পদ্মা ব্যাংকে জুনিয়র এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। এবারের বইমেলায় ‘অদেখা ছায়াপথ’ নামে তার একক গল্পগ্রন্হ প্রকাশিত হয়েছে। লেখকের লেখা প্রথম উপন্যাসিকা ‘ডিভোর্স লেটার’ ২০২৫ এর বইমেলায় প্রকাশিত হয় এবং প্রচুর পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে। তিনি দীর্ঘদিন থেকেই বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে লেখালেখির সাথে যুক্ত আছেন। মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় এবং জীবনধর্মী লেখা লিখতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।