কিন্তু এই শিল্পসূত্রের বীজ মগজে ঢুকিয়ে দিলেন ২০২৩ সালে বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশের বইমেলায় লেখক বলছি মঞ্চে। মঞ্চে যখন গডমাদার উপন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করতে করতে সঞ্চালক প্রশ্ন করলেন, ছোটগল্প নিয়ে কী ভাবছেন?
সঙ্গে সঙ্গে শিল্পের এই নান্দনিক কোরক-কাঁটা কবি ও উপন্যাসিক জহরত আরার করোটিতে গেঁথে যায় এবং ছোটগল্পের ভূগোলে গল্পের ছবি আঁকতে শুরু করলেন অক্ষরে অক্ষরে, বাক্যে বাক্যে, কল্পনার মিথে। ফলশ্রুতিতে এবারের বইমেলায় আসছে সর্পদেবী ও একগুচ্ছ বাসনা গল্পগ্রন্থ। মৌলিক চিন্তাধারা এবং সমাজ নিরীক্ষণ, আপন বলয়ের চেনা মানুষের অচেনা অভিজ্ঞান ধারণ করে তিল তিল তিলোত্তমায় সৃষ্টি করেছেন এক একটি গল্প। গল্পের চালচিত্র প্রতিদিনের জীবনের বিচিত্র জটিল বাঁক, দাম্পত্যর আড়ালে নিখুঁত প্রতারণার প্রতিবিম্ব, নারীর সঙ্গে নারীর বন্ধুত্ব, নাগরিক জীবনের ঘটমান অসহিষ্ণু ফাঁদের বিস্তার, যন্ত্রনার সঙ্গে বাসনার বাঁশি কেমন করে বাজে, এমন কী শত্রুতামূলক বৈষম্যও গল্পগুলোতে ফুটিয়ে তুলেছেন গল্পকার নিপুণ দক্ষতায়, পাঠ করতে করতে মরমে পশিয়া যায় অতলান্তিক বোধ।
সময় বইয়ের গল্পগুলোর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। আমরা যখন নিমজ্জিত হতাশায়, চারদিকে ভিড় অকূল বেদনারাশির, বিড়ম্বিত বিশ্বাসহীতায় শ্বাপত হাতের পেয়ালায় প্রাণ, বন্ধুত্বের পারদ শূন্য ডিগ্রীর তলানীতে যখন বরফের কবর রচনা করে, তখন পৌরাণিক চরিত্র এনে তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গীতে গল্পকার সাজান দৃশ্য ও সাদৃশ্যের পতাকা। এইসব কুহকের সৃজনে জহরত আরা’র গল্পগ্রন্থ সর্পদেবী ও একগুচ্ছ বাসনা প্রথম উপন্যাস গডমাদার এর মতো পাঠকপ্রিয়তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাসঙ্গিক প্রশ্নও তুলবেন।
জহরত আরা ১৯৬৮ সালের ৫ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলায় মামাবাড়িতে জন্ম। ইংরেজি সাহিত্যে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা তাঁকে জুগিয়েছে বাংলা সাহিত্যে লেখালেখির প্রেরণা। এই পর্যন্ত প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ছয়টি। প্রথম উপন্যাস গডমাদার (২০২৩) প্রথম কাব্যগ্রন্থ। পাখিদের মিছিলে (২০২০)। দুই সন্তান ঋষা আহমেদ, ঋদ্ধ আহমেদ ও স্বামী শিক্ষাবিদ সবুজ আহমেদকে নিয়ে তার সংসার। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় 'রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা'র ইংরেজি বিভাগে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। সাহিত্যের শিক্ষক এবং গবেষক জহরত আরা দীর্ঘদিন দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থায়ও কাজ করেছেন। বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন ও দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হয়েছে কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ। নোরাড স্কলারশিপ পেয়ে 'শান্তি গবেষণা' বিষয়ে গ্রাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করেছেন নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম এমফিল ডিগ্রি অর্জন করার গৌরব অর্জন করেন তিনি।