হত্যাকারী কে?
পাঁচকড়ি দে
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬
প্রকাশনী: সাহিত্যপিডিয়া পাবলিকেশন
রিভিউ: আন্নি লিপা
কাহিনী সংক্ষেপ:
সাদাসিধা ভালো মানুষ যোগেশ ভালোবাসিত লীলাকে। লীলাও তাহাকে বড় ভালোবাসিত। কিন্তু লীলার পিতা যোগেশ চন্দ্রকে অজানা কারণে জামাই বানাইতে অপরাগ। ভাগ্যের কবলে পড়িয়া যোগেশের মাতা অসুখে পীড়িত হইলে তাহারা দুইজন দেশান্তরী হন। এই সুযোগ লয় যোগেশেরই এককালের বন্ধু শশি ভূষণ। মাতার মৃত্যুতে শোকাহত যোগেশ লীলাকে বিবাহ করিবার এক বুক আশা লইয়া দেশে ফিরিলে জানিতে পারে সেকথা। শশি নিয়মিত মদ্য পান করিত, নানা কুকর্মে লিপ্ত, ইহা জানা সত্ত্বেও লীলার পিতা কী হেতু আপনার দুহিতাকে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাইয়া দিয়াছিলেন নিজ হস্তে, তাহা কেবল লেখক পাঁচকড়ি দে'ই জানিবেন।
সে যাহা হউক লীলার মদপ্য স্বামী তাহাকে রোজ প্রহার করিত। এরই মাঝে এক প্রভাতে যোগেশের কাছে লীলার দাদা নরেন্দ্র ছুটিয়া আসিয়া জানায় লীলা খুন হইয়াছে....
মূলত লীলার হত্যাকারী কে তাহাই খুঁজিয়া বাহির করেন গোয়েন্দা অজয় বাবু। এই লইয়াই কাহিনী খানা।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
মাত্র ৪৬ পৃষ্ঠার বই যে এতটা দারুণ হইতে পারে তাহা পূর্বে আমার জানা ছিল না। কী কহিব! হত্যাকারী কে এটা ভাবিতে ভাবিতে একসময় আপনার মস্তকেও পীড়া আরম্ভ হইবে। কী ভীষণরকম বইখানা আমি আগে পড়িনি কেন আহা!- ভাবিয়া মরিবার স্বাদ জাগিতেছিল। অজয় বাবুর অনুমান আর রহস্য উদঘাটনের পন্থা আমার মন কাড়িয়াছে। লীলার জন্য এক সমুদ্র হতাশা যেন আমার হৃদয়ে জখম করিয়াছিল। আর যোগেশ? সে তো পড়িয়া রবে মহাকালের অনন্ত আক্ষেপ আর আত্মগ্লানিতে।
কিতাবখানি আমি আপনাকে পড়িবার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানাইতেছি।
পার্সোনাল রেটিং: ৪.৫/৫
*বাক্যে গুরুচণ্ডালী দোষ হইতে পারে, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখিবার অনুরোধ রইল।