12 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 750
রাসূল সা.-এর সামগ্রিক ব্যক্তি ও সামাজিক জীবন কেমন ছিল এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বনবির বৈশিষ্ট ও গুণাবলি কেমন ছিল, তার চমৎকার বর্ণনা রয়েছে এই সিরাত গ্রন্থে।
নবিজির ইবাদতের স্থান
মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদতকারী ছিলেন আল্লাহর নবি মুহাম্মাদ (সা.)। সব মানুষের মাঝে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। সর্বোত্তম দ্বীনের প্রতি তিনি মানুষকে আহ্বান করতেন। ডাকতেন বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর ইবাদতের দিকে। নিজেও সর্বাত্মকভাবে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করতেন। তবে কোনো সুনির্দিষ্ট স্থানে তিনি ইবাদত করতেন না। মানুষের জন্যও কোনো স্থানকে ইবাদতের জন্য সুনির্দিষ্ট করে দেননি। ইসলাম বরং প্রত্যেক মুসলমানকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন যেকোনো স্থানে ইবাদতের অনুমতি দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে হাদিস রয়েছে। নবিজি বলেন-'দুনিয়ার তাবৎ ভূখণ্ডই আমার জন্য পবিত্র ও মসজিদ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। (সহিহ বুখারি : ৩৩৫; সহিহ মুসলিম : ৫২১) সুতরাং আল্লাহর রাসূল (সা.) যেকোনো পবিত্র স্থানে নামাজ আদায় করতেন। আল্লাহর কাছে দুআ করতেন। আল্লাহর জিকির করতেন। এমনকি ইবাদত করতেন বাজারেও, যেখানে মানুষ দুনিয়াবি কাজকারবার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। দুনিয়ার আস্বাদ ও আনন্দ-বিনোদন নিয়ে মেতে থাকে। তিনি ইবাদত করতেন ঘরেও, যেখানে মানুষ ব্যস্ত থাকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে। বিশ্রামে লিপ্ত থাকে।
নবিজি সর্বদা ইবাদত ও জিকিরে লিপ্ত থাকতেন, যেমনটি উম্মুল মুমিনিন আয়িশা (রা.) বর্ণনা করেছেন। (সহিহ মুসলিম : ৩৭৩; সহিহ বুখারি :৬৩৪ নং হাদিসের টীকা দ্রষ্টব্য)
আল্লাহ তায়ালা তাঁকে যেভাবে ইবাদত করার নির্দেশ দিতেন, তা তিনি হুবহু অন্যান্য মানুষকেও জানিয়ে দিতেন। বলে দিতেন মুমিনদেরও। তাঁর পুরো জীবনই ছিল ইবাদতের অঙ্গন, যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-'বলো, আমার নামাজ, আমার যাবতীয় ইবাদত, আমার জীবন, আমার মরণ, (সবকিছুই) বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য নিবেদিত।'(সূরা আনআম:১৬২)