বেনচাপ্রন নামে এক বিদেশিনীর হাতিপ্রীতি নিয়ে ‘ভালোর জন্য ভালোবাসা’ বইয়ের কাহিনি এগিয়ে গেছে। ‘বেনচাপ্রন’ চরিত্র আমার কল্পনায় রূপ পেলেও এখানে বাস্তবের এক নারীর ছায়া রয়েছে। তাঁর নাম মারিয়া। একসময় আমার বন্ধু সেলিনা শেলী মারিয়ার কথা আমাকে বলেছিল। মারিয়া শেলীর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্ত্রী। জাতিগতভাবে মারিয়া অস্ট্রিয়ান। ৮৩৮০ রাক্স নামক গ্রামে তার জন্ম। শেলী আমাকে মারিয়ার হাতিপ্রীতির গল্প শোনায়। হাতি প্রাণীটিকে অসম্ভব ভালোবাসে মারিয়া। তাই সে নানারকম হাতির শোপিস, ছবি আর হাতির ডিজাইনের জিনিসপত্র সংগ্রহ করে। সেই সঙ্গে শেলী বলে মারিয়ার অসুস্থতার কথা। কঠিন এক অসুখে আক্রান্ত সে। কঠিন ব্যাধি থাকা সত্ত্বেও মারিয়া থাকতে চায় প্রাণবন্ত। কিন্তু অসুখের সঙ্গে লড়াই করে মারিয়া হয়তো একসময় নেতিয়ে পড়বে। শুনে মনটা খারাপ হয়ে যায়। শেলী আমাকে বলে, মারিয়ার কথা লিখবে তুমি? হাতির জন্য মারিয়ার ভালোবাসার কথা? সেই থেকে মারিয়া আমার মনের ভেতর ঘোরাঘুরি করতে থাকে। সেই ভাবনাই অবশেষে ‘ভালোর জন্য ভালোবাসা’ বইয়ের কাহিনিতে রূপ পেলো।
আমার গল্পে অস্ট্রিয়ান নারী মারিয়া হয়ে গেল থাই মেয়ে বেনচাপ্রন। হাতির প্রতি একজন মানষের গভীর ভালোবাসা তৈরি হওয়ার জন্য কিছু পরিপ্রেক্ষিতের দরকার পড়ে, যেটি ছোটবেলা থেকেই তার মনকে গড়ে তুলবে। থাইল্যান্ডের নোনথাবুড়ি জেলার ব্যাং তানাই গ্রামের মেয়ে বেনচাপ্রন সেভাবেই গড়ে ওঠে। পূর্বপুরুষের পেশা, পরিবেশ, পারিবারিক ধর্মবোধ, ধর্মীয় সংস্কার এসব বেনচাপ্রনের মনোজগৎ গড়ে তোলে।
কাহিনির প্রয়োজনে এখানে কিছু থাই শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করতে হয়েছে আমাকে। এক্ষেত্রে আমাকে সহায়তা করেছেন থাইল্যান্ড প্রবাসী আমার একজন প্রাক্তন সহকর্মী জেসমিন আরা। গল্পের জন্য প্রয়োজনীয় শব্দ ও বাক্যগুলো আমি মেসেঞ্জারে লিখে পাঠাতাম। জেসমিন স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কথা বলে সেসব থাই ভাষায় রূপান্তরিত করে আমাকে পাঠাতেন। এজন্য জেসমিন আরার প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা রইল।
মারিয়ার হাতিপ্রীতির কথা শুনেই আমি বেনচাপ্রনের গল্প লিখতে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। এজন্য সবচেয়ে বড় ধন্যবাদ প্রাপ্য বন্ধু সেলিনা শেলীর।