12 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 150TK. 139 You Save TK. 11 (7%)
ফ্ল্যাপে লিখা কথা
অতি সম্প্রতি একটি দিনপঞ্জি বা ডায়েরি আবিষ্কৃত হয়েছে যার স্বত্বাধিকারী ও লেখিকা ছিলেন জীবনানন্দ দাশের জননী কুসুমকুমারী দাশ। কলকাতার খ্যাতনামা হৃদরোগ- বি
এই বইটি কবি কুসুমকুমারী দাশের দৈনন্দিন লিপি তথা ডায়েরি।
কুসুমকুমারী দাশের জন্ম ১৮৭৫ সালে বরিশালে। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত তিনি বরিশালের একটি স্কুলে পড়েছেন, তারপর স্কুলটি উঠে যায়। তখন তিনি পড়তে আসেন কলকাতার বেথুন স্কুলে। ❝প্রবাসী❞ পত্রিকার সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে থেকে তিনি দুবছর পড়াশোনা করেন। তারপর চলে যান ব্রাহ্মবালিকা বোর্ডিংয়ে। তিনি লেখাপড়ায় খুব ভালো ছিলেন, কিন্তু প্রবেশিকা শ্রেণিতে পড়ার সময় ১৯ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়ে যায় বরিশালের সত্যানন্দ দাশের সঙ্গে ১৮৯৪ সালে।
বিয়ের পর তার জীবন দুটি খাতে প্রবাহিত হতে থাকে। এক. তিনি বৃহৎ মধ্যবিত্ত একান্নবর্তী সংসারে অচ্ছেদ্যভাবে সংলগ্ন হয়ে গেলেন দুই. সংসারের জালে তার লিখন-কর্ম আটকে গেল না। সংসারের বিশাল কর্মের ভার সামলে তিনি অবসর সময়ে লেখাপড়ার চর্চা করেছেন। পাশাপাশি সংসারের গণ্ডির বাইরে বিভিন্ন সামাজিক কাজে এবং অনুষ্ঠান তার অংশগ্রহণ ছিল। তিনি ব্রাহ্মিকা সমাজের আচার্যের কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। এছাড়া তিনি বরিশাল মহিলা সভার সম্পাদিকার দায়িত্বও পালন করেছেন।
জীবনানন্দ দাশের 'আমার মা-বাবা' প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, কুসুমকুমারী দাশ মাঝে মাঝে প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার কথা লিখে রাখতেন। কিন্তু সেসব লেখা তিনি কোথায় রেখেছিলেন বা নিজেই নষ্ট করে ফেলেছিলেন কিনা তা জানা যায়নি।
এই ডায়েরিটি তিনি লিখতে শুরু করেন ১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এবং শেষ করেন ১৯৪৩ সালের জুলাই মাসে। কুসুমকুমারী দাশ মারা যান ১৯৪৮ সালে। অর্থাৎ এই ডায়েরিটা তিনি লিখেছিলেন জীবনের শেষদিকে। এই ডায়েরি লিখতে আরম্ভ করার দুই মাস পর জীবনানন্দ দাশের বাবার মৃত্যু হয়। ফলত, এই ডায়েরিতে সেসময় তাদের পরিবারের অবস্থার একটি প্রচ্ছন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। বেশিরভাগ অংশ জুড়েই পরিবারের সদস্যদের কথা আছে, তাদের সুখ অসুখ উৎকণ্ঠা ইত্যাদি। বেশকিছু কবিতাও তিনি লিখেছিলেন এই ডায়েরিতে, যা স্বামীর মৃত্যুর পর তার হৃদয়ের অবস্থার বহিঃপ্রকাশ। নাটকীয় কোনো ঘটনার বর্ণনা এই ডায়েরিতে নেই, কিন্তু এই ডায়েরি পাঠে তাদের পরিবার সম্পর্কে কিছুটা আভাস পাওয়া যায়, যা জীবনানন্দ-প্রেমী পাঠককে আকৃষ্ট করবে।