নববর্ষ মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যয়। নববর্ষ মানেই জীর্ণ-পুরোনোকে বিদায় জানানো। নববর্ষ মানেই কবি শামসুর রাহমানের গানের কলি- 'এলো নববর্ষ, শুভ নববর্ষ'।
সর্বজনীন উৎসবের দিন পয়লা বৈশাখ। বাংলাদেশের সকল মানুষের হৃদয়কে এ দিনটি স্পর্শ করে। নানা ঝামেলার মধ্যেও পয়লা বৈশাখ আমাদের একটু অন্যভাবে নাড়া দেয়। এর কারণ বঙ্গাব্দের সঙ্গে বাংলাদেশের ঋতু চক্র এবং কৃষি উৎপাদনের নিবিড় সম্পর্ক।
বৈশাখ আমাদের সাহিত্যে, বৈশাখ আমাদের কবিতায়, বৈশাখ আমাদের গানে, বৈশাখ আমাদের
জীবনের। অর্থ থাকুক আর নাই থাকুক পয়লা বৈশাখে আমাদের হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথের সুর জেগে
উঠবে- 'এসো হে বৈশাখ'।
পয়লা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই বর্ষবরণ উৎসব এখন বিশাল রূপ নিয়েছে। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে যে উৎসবের শুরু তা চলে রাত অবধি। কতই না আনন্দ!
বৈশাখ এখন আর শুধু ছায়ানটের বর্ষবরণ আর চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রায় সীমাবদ্ধ নেই। বৈশাখ মানেই বর্ণিল আনন্দ। ছোটদের হৈ-হুল্লোর, জয়ধ্বনি। বৈশাখ মানেই তরুণীদের হাতভর্তি রেশমী চুড়ি, খোঁপায় গোঁজা রঙিন ফুল, দেশীয় ঐতিহ্যের নতুন পোশাক, গ্রামীণ মেলা, নাগরদোলা, হাওয়াই মিঠাই, মুখোশ, পুতুল নাচ, হালখাতা, রাজপথে আল্পনা আরও কত কী? চারদিকেই রঙের ছড়াছড়ি।
বৈশাখে বড়দের চেয়ে ছোটদের আনন্দই বেশি। বৈশাখী মেলায় ঘুরে বেড়ানো, নাগরদোলায় চড়া, হাওয়াই মিঠাই খেতে খেতে এটা-ওটা কেনা। বৈশাখে দেশের নানা অঞ্চলে নানা অনুষ্ঠান হয়। সিলেটের গ্রাম ও চা-বাগান এলাকায় হয় মোরগের লড়াই, পার্বত্য অঞ্চলে হয় বৈশাবী উৎসব, দক্ষিণাঞ্চলে হয় নীলনৃত্য বা অষ্টক গানের উৎসব, রাজশাহীতে হয় লাঠিখেলা, গম্ভীরা গান। চট্টগ্রামে বলী খেলা। হাওর অঞ্চলে হয় ঢপযাত্রা। এক কথায় মজার আনন্দে ভরপুর আমাদের নববর্ষ।