বড় কাটরার পাশের এই নতুন হোটেলটির আসবাবপত্র দেখলে কে বুঝবে যে এটি মুঘল আমলের তৈরি নয়। চেয়ার তো চেয়ার নয় যেন সূদুর অতীতের তৈরি রাজসিংহাসন। মুসলিম শাসন আমলে এইগুলিকে বলা হত কুরসি। কুরসির সামনের আসনের দিকটা বিস্তৃত। কাঠের তৈরি কুরসির বসবার স্থান আর পিঠ লাগানোর জায়গাটা নরম লাল মখমলে ঢাকা। হাতল দুটি অবিকল ছোট্ট দুটি সিংহের মুখ। হা করে আছে।
স্টেরিও টাইপ মূর্তির মত একটি কুরসিতে গা এলিয়ে বসে আছে এক তরুণী। চুপচাপ, স্থির। চোখে পলক নেই। ডান হাতখানা কুরসির সিংহের গায়ে রাখা, ডান গালে ছুঁয়েছে মুষ্টিবদ্ধ আঙ্গুলের গুচ্ছ। তরুণী কি যেন ভাবছে। কি এক গভীর নিবিষ্টতায় ছেঁয়ে আছে তার অন্তর। অন্তরের সবটুকু না হলেও কিছুটা আভাস লেগে আছে তার গায়ে। পূরণে মখমলের স্বল্পবাস স্কার্ট। হাঁটুর সমান সমান ঘেরা। গায়ের রং ফর্সা। ঠিক বাঙালি ঘরের ফর্সা সুন্দরীর মতোই। তবু তাকে বাঙালি মনে হয় না।