18 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 550TK. 479 You Save TK. 71 (13%)
উনিশ শ একাত্তর সালে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ ছিল তার হাজার বছরের ইতিহাসে এক গৌরবগাথা। সেইসঙ্গে অপমান, যন্ত্রণা ও লাঞ্ছনারও রক্তাক্ত ইতিহাস। নিরস্ত্র শান্তিপ্রিয় বাঙালি জাতির ওপরে পাকিস্
গল্পের গায়ে নানা সময়ের দাগ, ক্ষত, অহংকার স্বাভাবিকভাবেই লেগে আছে, থাকবে। এতে মানুষের মুক্তির লড়াই সংগ্রাম যেমন আছে, তেমনি মানববিকাশের নানান কথকতা এর গায়ে গেঁথে থাকবে— তাই তো স্বাভাবিক। ১৭৫৬, ১৮৫৭, ১৯০৫, ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০-এর রাজনৈতিক, সামাজিক কথকতা তো আছেই, আরও নানান ভূ-রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক আবহ আমাদের গল্পে আছে। মূলত, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছোটগল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক প্রসঙ্গের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। নানাভাবে গল্পে হাজির হয়েছে সাতচল্লিশের দেশভাগ, বায়ান্নোর ভাষা-আন্দোলন কিংবা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক অধ্যায়গুলো। জাতীয় জীবনে এ ঘটনাবলি প্রভাব বিস্তার করেছে নানাভাবে, চেতনায় জাগিয়ে গেছে মানুষকে, ভূগোল-প্রতিবেশ পাল্টে দিয়েছে আমূল, ফলে গল্পকাররা এইসব সোনালী দিনগুলোকে ফ্রেমবন্দি করেছেন গল্পে আবুল হাসনাত। মুক্তিযুদ্ধ আমাদেরকে স্বাধীনতা উপহার দিয়েছে, আমাদেরকে সাহিত্য জগতে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে বিশেষ গৌরব ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন । আমাদের সাহিত্যের উৎকর্ষে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখে মুক্তিযুদ্ধ। তৈরি হয় মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলী নিয়ে নানা ধরনের সাহিত্যসৃষ্টির প্রবণতা। আর এই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন পর্যন্ত সাহিত্যসৃষ্টিতে অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামশীলতা, দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ, বীর্যবত্তা ইত্যাদি গুণের পরিচয় বিধৃত হয়ে সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা ক্রমেই স্বমহিমায় অবয়ব লাভ করেছে। তাই বাংলাদেশের সাহিত্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এক অনন্য বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নবজন্ম লাভ করার পরে বাংলাদেশের সাহিত্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য কোন কোন ক্ষেত্রে স্পষ্টতর হয়ে উঠে গল্পে।