3 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 200TK. 129 You Save TK. 71 (36%)
কত কী যে হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের অনুষঙ্গ। এইসব হারিয়ে যাওয়া সময়ের ঠোঁটে চুমু খেয়ে সিক্ত অনুরণন একটা শহরজুড়ে বৃষ্টি নামায়। এ-বৃষ্টি ভেজায় না—সবখানে শূন্যতা রেখে যায়। দেওয়াল থ
#বুক_রিভিউ
সাহিত্য এক ধরণের শিল্প। আর এই শিল্পের মধ্যে সুন্দরতম একটি সৃষ্টি হলো 'মুক্তগদ্য'। সাহিত্যের গতবাধা নিয়ম-নীতির মধ্যে না গিয়ে লেখক মুক্তভাবে নিজের ইচ্ছের নাটাই ঘুরান বলেই হয়তো মুক্তগদ্য স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে, রূপ-মাধুর্যে অতুলনীয় হয়ে উঠে।
'দূরের আকাশ হতে' তেমনই কিছু মুক্তগদ্যের সমন্বয়ে রচিত। এখানে লেখক কখনো খুব গভীর চিন্তায় ডুবে গিয়েছেন, কখনো-বা নিতান্ত উদাসীনতায় কিংবা বেদনা-ভারাক্রান্ত হৃদয়ে একেকটা মুক্তগদ্য লিখেছেন। পড়তে পড়তে আপনিও গভীরভাবে অনুভব করবেন লাইনগুলো। নিজের অস্তিত্ব ভুলে গিয়ে বইয়ের ওই কালো কালো অক্ষরগুলোতে হারিয়ে যেতে শুরু করবেন।
বইটা পড়ার সময় আপনি জীবনকে দেখবেন অন্য সংজ্ঞায়। পুকুরের পানিতে ভেসে থাকা হাঁসের দলে, কামরাঙা ফুলের ডগায় লেগে থাকা শিশিরকণায়, ভোরের রোদের সৌন্দর্যে—অসাধারণত্ব অনুভব করবেন নতুনভাবে।
এই ধরণের বইগুলো মন খারাপের সময়টাতে ভালো সঙ্গী হতে পারে। কয়েকপাতা পড়লেই মন খারাপের পারদ হালকা হয়ে যায়। তাই বইটা সংগ্রহ করা। আমার আশানুরূপ ছিল বইটা, সুখপাঠ্য ছিল।
তবে বইয়ের লেখক যেহেতু ইসলামী ঘরানার লেখক, আমি আশা করেছিলাম মুক্তগদ্যগুলোতে কিছু শিক্ষা থাকবে, ছোট ছোট মেসেজ পাওয়া যাবে। কিন্তু কিছু বাস্তব উপলব্ধি পেলেও এমন মেসেজ পাইনি বইটাতে। লেখক চাইলেই পারতেন প্রতিটা মুক্তগদ্য লেখার সময় স্বাধীনভাবে কলম চালিয়েও তার ভেতরে কিছু সুপ্ত মেসেজ রেখে দিতে। এতে বইটার গ্রহণযোগ্যতা এবং উপকারিতা আরো বাড়তো বলেই আমার বিশ্বাস।
Was this review helpful to you?
By সাদ আমির, Mar 27, 2024
‘দূরের আকাশ হতে’ আমার তৃতীয় গদ্যগ্রন্থ। এইখানে সংকলিত গদ্যগুলো মূলত সময়ে সময়ে লেখা। একেকটি গদ্য আমার ভাঙাচুরা জীবন ও সময়ের চিহ্নপত্র। জগতে কত জীবনের ভেতর দিয়েই না প্রবাহিত হতে হয় আমাদের! বয়ে বেড়াতে হয় উন্মীলিত হাহাকার। কখনো তুমুল নিঃসঙ্গতায় অনুশোচনায় গলা ধরে আসে। ভিজে উঠে কোমল পরশেরা। দুই হাজার তেরো থেকে দুই হাজার সতেরো পর্যন্ত জীবনের যেই তুমুল ভাঙচুর, বিস্মৃতির পথ ধরে হেঁটে যাওয়া সেসব ধুলোর আস্তরণে আবৃত জীবন যদি লিখে রাখতে পারতাম ভুল করেও—খুব একটা কাজে না এলেও স্মৃতির খাতায় খুঁজে পেতাম জীবৎকালের টুকরো অধ্যায়। হাতড়ে পেতাম প্রীতিসাধন এবং অপ্রীতিকর বহু মুহূর্তকাল। প্রিয় মানুষগুলোর বদলে যাওয়া তখন খুবই রহস্যজনক। দুই হাজার আঠারোর পর জীবন অনেকটা অহেতুক বলে মনে হয়। তবুও সেই অহেতুক জীবন লিখতে শিখেছিলাম। যা লিখেছি, জ্বলজ্বল করছে স্মৃতির বায়োস্কোপে। ‘দূরের আকাশ হতে’ সেইসব দিশেহারা দিনেরই ভায়োলেন্ট দুপুরের রোদ।