ভোরের জংশনে অপেক্ষা করে কেউ, কেউবা, চিঠি হাতে একটা নির্দিষ্ট মানুষের আশায় ঠায় দাঁড়িয়ে। অথচ কেউ আসবে না জেনেও মানুষ অপেক্ষা করে। বোধহয়, গন্তব্যে পৌঁছানোর আগের যাত্রাটাই সুন্দর, গন্তব্যে পৌঁছে গেলে ভেতরে ক্ষুধা মরে যায়। তাই, এই অপেক্ষার কোনো গন্তব্য নেই। যত টুকরো থেকে গেছে সেটুকু আক্ষেপ। আক্ষেপ বড় ভয়ংকর জিনিস। মস্তিষ্কে ক্ষত জমায়। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কী তাজ্জবভাবে গল্প হয়ে যায়! ভাবা যায়!
কখনো কখনো কাল্পনিক হয়েও বাস্তব হয়। কখনো কখনো গল্প হয়েও সত্যি হয়। এক কেউ জানবে না। কেউ দেখবে না। শুধু চোখের দূরত্বে দেখে নেবে দু-চোখ শহরের এ মাথে থেকে ও মাথা কীভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে কৃষ্ণচূড়া। এ শহরে ঘুড়ি উড়ে অদৃশ্য চিঠি হয়ে নুইয়ে পরে অজানা কোনো গোরস্থানে। কেউ বসে থাকে একা। প্লাটফর্মে ভীড় জমে, স্মৃতি পাতায় ট্রেন এলেই সে ফিরবে বাড়ি। আর পৃথিবীর এক কোণায় থেকে গেল গল্পের নিখিলেশ। তবে তার চেয়ে বেশি থেকে গেল দেয়ালিকার হৃদয় জুড়ে এই শহরের কৃষ্ণচূড়া।