অরণ্য আপন শব্দের বুননে দৃশ্য ও চিত্রপট সাজানোর রূপকার। তরুণ কবি ও লেখক। তিনি লিখে চলছেন অদম্য সাহস ও স্বকীয়তায়। তার গল্প বিচিত্র কাহিনি ও গতিময়তার আবেশে ভরপুর। নান্দনিকতার সম্ভারে
#বুক_রিভিউ
#তোমার_আমার_মাঝে_একটি_হৃদয়
#অরণ্য_আপন
ছোট বড় ভিন্ন ভিন্ন কাহিনী নিয়ে নয়টি গল্পের সমাহার এই বইয়ে৷ প্রতিটা গল্পতেই ফুটে উঠেছে সমাজের নানান চিত্র। ঘর-গেরোস্থালী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কি নেই এই গল্পগুলোতে! চিত্রকরের মতোই গল্পকার অরণ্য আপন এঁকেছেন বিভিন্ন চরিত্রসমূহও যা কখনো আমাদের কাঁদায়, কখনোও বা একটা প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায় যার উত্তর আমরা খুঁজে ফিরি সর্বত্র। এছাড়া লেখক অত্যন্ত সুনিপুণভাবেই মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো ফুটিয়ে তুলেছেন যেমন সূঁচের ফোঁড়ে ফুটে উঠে নকশী কাঁথা! গল্পের চরিত্রগুলো সেই বিষয়েরই সাক্ষ্য দিচ্ছে যেনো। একটা বিষয় যা আমাকে ভাবিয়েছে বারবার তা হলো উপমার ব্যবহার। সহজ সাবলীল কথাও যে উপমার যোগ্য সেটা এই বইটি না পড়লে জানাই হতো না। যেমন- ‘'ভাতের ফেনার মতো সাদা মেঘ ঢেউ ঢেউ হয়ে উঠেছে, ভাতে যেভাবে উদেল আসে’’ এমনকি ‘'সন্ধ্যার পেট ফাঁপা অন্ধকার”। এমন আরোও অনেক উপমাতে পরিপুষ্ট গল্পগুলো। সাধারণত সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে প্রমিত ভাষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের গল্পকারের উনার নিজ জেলার ভাষার ব্যবহার পরিলক্ষিত। এই আঞ্চলিকতার ছোঁয়া যেনো উনার রচিত চরিত্রগুলোকে আরোও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। আমার মনে হয় উনার লিখনি পড়লে পাঠকেরা নিজেকে সেই ঘটনার একজন মনে করবেন। এটা উনার নিপুণ শিল্পশৈলীর কারিশমা বলা যায়। আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় কোন গল্পটা আমার হৃদয় ছুঁয়েছে আমি বলব “আজানওয়ালা” গল্পের কথা। সামাজিক, ধর্মীয়, মনস্তাত্ত্বিক সকল বিষয়ই এখানে অদ্ভুতভাবেই একে অপরের সাথে সম্পর্কিত যেটা আসলে গল্পটা না পড়লে বোঝা যাবে না। আমার কাছে মনে হয় এই বই টা আপনাদের সংগ্রহের তালিকায় রাখার যোগ্য। লেখকের প্রতি অনেক শুভকামনা এবং কৃতজ্ঞতা। এভাবেই আপনি আজীবন আমাদের মাঝে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত এবং অনুভূতি ব্যক্ত করবেন।