প্রকৃতি ও জীবনের ক্ষণকালীন চঞ্চলতাকে তিনি তাঁর কবিতার বাণীরূপে শর্তহীন ধরে রাখেন। স্বদেশ ও জগৎ-প্রকৃতির উদার ক্যানভাসে তাঁর এই ভাষিক অংকন একান্তই স্ফুর্ত ও আন্তরিক। কবি হিসেবে একে তাঁর স্বাভাবিক প্রাণশক্তির অক্ষত নজির হিসেবে দেখা যায়। প্রথা কিংবা প্রতিষ্ঠার ছকে বাঁধা অভ্যাসের উৎপীড়ন তাঁকে আড়ষ্ট করে না। স্বকীয় প্রকাশে উচ্ছ্বল বর্তমান বইয়ের কবিতাগুলোতে তাঁর সাচিবিক অস্তিত্বের কোনো প্রকার ক্লান্তি বা কঠোরতা চোখেই পড়ে না। সৃষ্টির বিশেষ মুহূর্তে সৃজকের অবস্থা শিশুত্ব বা মাতৃত্বের সরলতার মধ্যে অবস্থান করে। এই তাঁর শ্রেষ্ঠতম ধ্যানাবস্থা, শ্রেয়তম নিমজ্জন। গভীর চোখে দেখলে তাঁর লেখায় এই অবচেতন সারল্যের অভিঘাত স্পষ্টতর। শিল্পজগতে তাঁর পরিক্রমা অস্তিত্বের সৌন্দর্যকে আকর্ষণীয় করে তুলবে, এ-ই স্বাভাবিক। গ্রন্থবদ্ধ কবিতাগুলো সমঝদার মনে অনাবিল আনন্দের রসদ যোগাবে বলেই ধারণা করা যায়।