44 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 260TK. 224 You Save TK. 36 (14%)
"আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ" বইটির মুখবন্ধ অংশ থেকে নেয়াঃ
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জলাশয় যেমন বাড়ছে না, তেমনি দেশের আনাচে-কানাচে প্রচুর ডােবা-নালা, প
প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশে প্রচুর জলাশয়, খাল বিল, হাওড় বাওড়, নদীনালা বিদ্যমান যেখান থেকে আমরা প্রায় সারা বৎসর পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ পেয়ে আসছি এবং যা আমাদের প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদা পূরনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।মৎস্য ঘেরের পাশাপাশি এর চারদিকে উঁচু বেড়িবাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক পদ্ধতির কৃষি খামার।মাছ চাষ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণনে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে সাড়ে চার হাজার পরিবার। আমাদের দেশের দ্রুত বর্ধণশীল জনসংখ্যার প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য মাছের বর্তমান উৎপাদনকে আরো অনেক বৃদ্ধি করতে হবে। গরমের পরেই আসছে বর্ষা—মাছের ডিম পাড়ার সময়। মাছ চাষের জন্য এই সময় বিভিন্ন ধরনের ডিমপোনার চাহিদা থাকে। কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশে মাছের ডিম অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। পরিবহণের সময়ও প্রচুর ডিমপোনা নষ্ট হয়। ফলে দুর্বল ও অসুস্থ চারা উৎপাদন হয়, চাষিরা লোকসানে পড়েন। এই প্রেক্ষিতে উন্নত পদ্ধতিতে সুস্থ, সবল মাছের চারা তৈরি করার জন্য প্রজননক্ষম মাছের চাহিদা বাড়ছে হ্যাচারিগুলোতে। যে সমস্ত চাষিরা বড় মাছের চাষ করেন, তাঁরা আর একটু পরিচর্যা করে প্রজননক্ষম মাছে পরিণত করতে পারলে আরও বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন হ্যাচারি মালিকদের কাছে। হ্যাচারিগুলো নিজেরাও এখন প্রজননক্ষম মাছ লালন-পালন করছে। মাছচাষিরা একটু সতর্ক হলে এবং চাষকালে প্রতিটি ধাপে দক্ষতার পরিচয় দিলে ক্ষতি বা লোকসান থেকে রক্ষা পেয়ে নিশ্চিত লাভবান হতে পারবেন।
Was this review helpful to you?
By Ratna Biswas, May 7, 2017
এ. কে. এম. জহুরুল ইসলাম , কাজী মাহবুবুল হকের লেখা 'আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ’। অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলজ জীব, যেমন মাছ, চিংড়ি, সামুদ্রিক আগাছা, কাঁকড়া ইত্যাদি সামগ্রিকভাবে মৎস্য সম্পদ বলে। প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশে প্রচুর জলাশয়, খাল বিল, হাওড় বাওড়, নদীনালা বিদ্যমান যেখান থেকে আমরা প্রায় সারা বৎসর পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ পেয়ে আসছি এবং যা আমাদের প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদা পূরনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের দ্রুত বর্ধণশীল জনসংখ্যার প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য মাছের বর্তমান উৎপাদনকে আরো অনেক বৃদ্ধি করতে হবে। গরমের পরেই আসছে বর্ষা—মাছের ডিম পাড়ার সময়। মাছ চাষের জন্য এই সময় বিভিন্ন ধরনের ডিমপোনার চাহিদা থাকে। কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশে মাছের ডিম অনেকাংশে নষ্ট হয়ে যায়। পরিবহণের সময়ও প্রচুর ডিমপোনা নষ্ট হয়। ফলে চাহিদা মতো মাছের চারা পাওয়া যায় না। কৃত্রিম উপায়ে হ্যাচারিতে প্রজনন (প্রণোদিত প্রজনন) করিয়ে এই সমস্যা কিছুটা মিটেছে এখন। কিন্তু চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জোগাতে গিয়ে হ্যাচারি মালিকেরা অনেক সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক মাছেদের প্রজনন করায়। ফলে দুর্বল ও অসুস্থ চারা উৎপাদন হয়, চাষিরা লোকসানে পড়েন। এই প্রেক্ষিতে উন্নত পদ্ধতিতে সুস্থ, সবল মাছের চারা তৈরি করার জন্য প্রজননক্ষম মাছের চাহিদা বাড়ছে হ্যাচারিগুলোতে। যে সমস্ত চাষিরা বড় মাছের চাষ করেন, তাঁরা আর একটু পরিচর্যা করে প্রজননক্ষম মাছে পরিণত করতে পারলে আরও বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন হ্যাচারি মালিকদের কাছে। হ্যাচারিগুলো নিজেরাও এখন প্রজননক্ষম মাছ লালন-পালন করছে। মাছচাষিরা একটু সতর্ক হলে এবং চাষকালে প্রতিটি ধাপে দক্ষতার পরিচয় দিলে ক্ষতি বা লোকসান থেকে রক্ষা পেয়ে নিশ্চিত লাভবান হতে পারবেন।