বাংলা সাহিত্যভুবনে কবি ও কথাশিল্পী সুমন সুবহান একাধারে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও ছড়ার মাধ্যমে নিজস্ব সৃজনধারা গড়ে তুলেছেন। প্রেম, প্রকৃতি, নাগরিক জীবন, ইতিহাস ও নিঃসঙ্গতা তাঁর সৃষ্টির প্রধান উপজীব্য। ব্যক্তিগত অনুভব থেকে শুরু করে সামষ্টিক চেতনা পর্যন্ত—সবই তাঁর লেখার ভেতরে স্বাভাবিক প্রবাহে মিশে গেছে।
প্রকাশিত গ্রন্থাবলি
- গল্প : ঝরাপাতার গান (২০১৩)
- কাব্যগ্রন্থ : নক্ষত্র ভেজা দিন (২০১৭), যে জীবন ফড়িঙের (২০১৮), চেয়েছি শুধু শূন্যতা (২০১৮), জলের কাছে যাবো (২০২১), যে তুমি করেছো হরণ (২০২২), বন্ধনহীন গ্রন্থি (২০২২), বসন্ত এসে ছুঁয়ে গেছে (২০২৩), তোমার নামে নৌকা ভাসাই (২০২৪), এভাবেই বিষাদে সংলাপে (২০২৫)
- ছড়া : ছড়িয়ে দেয়া ছড়া (২০২২)
- উপন্যাস : পাভেলের নানাবাড়ি (২০১৭), গ্রাউন্ড জিরো (২০২২)
- প্রবন্ধ : ফুটনোটে জলছাপ (২০২৫), অনুগামিনীগণ (২০২৫), একাত্তর : পূর্বাপর (২০২৬)
সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ করলেও তাঁর মূল পরিচয় কবিতায়। আধুনিক নাগরিক জীবনের ক্লান্তি, প্রেমের অপূর্ণতা, স্মৃতির ভার আর প্রকৃতির প্রতি অনুরাগ—এসব তাঁর কবিতায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবার উপন্যাস ও গল্পে তিনি ধরেছেন সময়ের স্রোত, বাস্তবতার টানাপোড়েন এবং সমাজ-ইতিহাসের নানা অনুষঙ্গ।
সুমন সুবহানের লেখায় একদিকে আছে অন্তর্মুখী বিষাদ, অন্যদিকে আছে জীবনের প্রতি গভীর অনুরাগ। ফলে তিনি সমকালীন বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ কণ্ঠস্বর হিসেবে পাঠক-সমালোচকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন।
কথাসাহিত্যিক ও সামরিক বিশ্লেষক সুমন সুবহান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক। দীর্ঘ ৩১ বছরের সামরিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পেশাগত শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিয়েছেন। পেশাগত জীবনের কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যেও তাঁর বই পড়া ও মননশীল লেখালেখির অভ্যাস ছিল নিরবচ্ছিন্ন, যার ফলস্বরূপ ইতিমধ্যে তাঁর বেশ কিছু গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও প্রবন্ধের বই প্রকাশিত হয়েছে।
পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমাদের একাত্তরের ইতিহাস বরাবরই তাঁর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এই ইতিহাস গ্রন্থটি সেই গভীর আগ্রহ এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানেরই ফসল। সামরিক পেশাজীবী হওয়ার কারণে তিনি যুদ্ধের অপ্রকাশিত দলিল, সামরিক কৌশল (যেমন- ‘অপারেশন চেঙ্গিশ খান’, ‘মেঘনা হেলিব্রিজ’) এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব (যেমন- ‘গঙ্গা হাইজ্যাক’, ‘শিলিগুড়ি কনফারেন্স’) নিয়ে প্রথাগত ইতিহাসের বাইরে গিয়ে বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর লক্ষ্য ইতিহাসকে আবেগ এবং সরলীকরণের ঊর্ধ্বে রেখে কঠোর সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠ করা। তাঁর বিশ্লেষণ শুধু ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা দেয় না, বরং ঐতিহাসিক জটিলতা এবং যুদ্ধের নেপথ্যে থাকা অপ্রত্যাশিত সত্যগুলোর দিকে আলোকপাত করে।
বর্তমানে তিনি অবসর জীবন যাপনের পাশাপাশি লেখালেখি ও গবেষণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।