1 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 250TK. 219 You Save TK. 31 (12%)
মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক কখন কোন দিকে বাঁক নেবে তা কি নিয়তি নির্ধারিত? নাকি সেটি ঠিক করে মানুষ নিজেই? এমনও তো হতে পারে, এই সব পারস্পরিক সম্পর্কের দোলাচলে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে
যে দিতে জানে
ভালো থাকে সে
প্রকৃতির আইনে।
লেখক সাগরিকা নাসরিন বইয়ের মাঝে এই বলে অটোগ্রাফ দিলেন। আমি অটোগ্রাফ দেখে চমকে উঠলাম, এতো সুন্দর করে লিখে কেউ? উৎসর্গ পত্র পড়ে মূল লেখায় গিয়ে দেখি সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষগুলোই "আধখানা বসতি তাঁহার" গল্পগ্রন্থের মূল উপজীব্য বিষয়। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। যাঁরা পরিবার পরিজন এবং সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন তাদেরকে ভিন্ন চোখে দেখে দেশের অধিকাংশ মানুষ। আমরা এদেরকে হিজড়া হিসেবে জানি কিন্তু মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন কেউ করতে চাইনা! তাই তাঁদের কর্মসংস্থান হয়না। লেখক এই বইতে হিজড়া সম্প্রদায়ের মানবিকতার কথা লিখতে গিয়ে বঙ্গবাজারে পুড়ে যাওয়া ব্যবসায়িদের পাশে দাঁড়ানো হিজড়া সম্প্রদায়ের কথা তুলে এনেছেন। বলেছেন তাঁদের মনের অব্যক্ত কথাগুলো। বইয়ের কয়েকটা পছন্দের লাইনগুলো হলো-
১. পশুপাখিও তাদের উত্তরাধিকার রেখে মারা যায়। হিজড়ারা কোনো স্মৃতিচিহ্ন রেখে যেতে পারে না পৃথিবীতে।
২. স্নেহ, প্রেম, ভালোবাসা, সম্পর্ক যত সহজ, সংসার ততই কঠিন। রাষ্ট্র পরিচালনার চেয়েও কঠিন সংসার চালনা।
৩. মানুষের সবচেয়ে বড়ো দূর্বলতা, সে নিজেই নিজেকে চেনে না।
৪. সবসময় মানুষ কোনো না কোনো তাড়না নিয়ে বেঁচে থাকে। কখনো শেষ হয়না জীবনের এইসব ঘুর-ঘুরান্তি তাড়নার চরকি খেলা।
৫. বদলানোই তো মানুষের ধর্ম। দিনে, রাইতে,সকালে,বিকালে,সন্ধ্যায় মানুষ বদলায়।