সে যখন আসমানের দিকে তাকাল, তখন সেই উত্তপ্ত চোখের বাষ্পে শুকিয়ে গেল মেঘ, সমস্ত কোলাহলময় চরাচর হয়ে উঠল মৃতের মতন স্তব্ধ, তার দিকে তর্জনী তুলে দেখাচ্ছিল যে যুবকেরা, তাদের সেই শানিত আঙুল মুহূর্তে কুঁকড়ে যাওয়া কাগজের মতো হয়ে উঠল। সবাই বিস্মিত হয়ে দেখল, যে চিতাবাঘ দাঁত হারিয়ে মুখ থুবড়ে ছিল খড়ের গাদায়, সে বিপুল শক্তি সঞ্চয় করে দাঁড়িয়েছে পৃথিবীর সামনে।...'
খোঁড়া দৌড়বিদ বাংলা সাহিত্যে বাস্তববাদী ছোটোগল্পকারের সংখ্যা হয়তো কম নেই, তবে নাসরীন জাহানের মতো জীবন অবলোকনের সূক্ষ্মদর্শিতা ও ভাবপ্রকাশের শানিত দীপ্তি খুব কম গল্পকারের লেখায় চোখে পড়ে। পাঠককে নিছক বিনোদিত করার কাজে তিনি কখনোই নিজেকে নিয়োজিত করেননি।
তিনি গল্পের চালচিত্রে নিপুণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন মানুষের ব্যক্তিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান। ব্যক্তিভেদে রসভেদ কিংবা রুচিভেদ হতে পারে বলেই এই গ্রন্থের গল্প নির্বাচনে হাত দিয়েছেন গল্পকার স্বয়ং।
যেকোনো গল্পের পটভূমি ও স্বকীয়তা সম্পর্কে তাঁর ভাবনাই চূড়ান্ত। তথাপি প্রতিটি গল্প নির্বাচনে গল্পকারের প্রাজ্ঞ ও কুশলী মনোভাব পাঠকের দৃষ্টি এড়াবে না।
নাসরীন জাহানের স্বনির্বাচিত গল্পে নির্বাচিত হয়েছে পঞ্চাশটি ছোটোগল্প। প্রথম খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে হীরকদ্যুতিসম পঁচিশটি গল্প।