'ফার্স্ট বয়' বইটি আমার পড়া লেখক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামালের প্রথম বই । তবে এই বইটি পড়েই আমি তার একরকম ভক্ত হয়ে গেছি ।আমি মাধ্যমিক লেভেলের ছাত্র বলেই হয়তো আমার একটু বেশিই ভাল
লেগেছে ।আর বইটির প্রচ্ছদটি আমার ভেতর এক অনন্য ভাল লাগার অনুভূতির সৃষ্টি করছিল ,এর কারণ অন্বেষণ করতে গিয়ে কেন জানি না প্রচ্ছদে দৃশ্যমান
ছবিটি আমার প্রতিচ্ছবি বলে মনে হতে লাগে ।
মোস্তফা বইটি অত্যন্ত সরল ভাষায় উপস্থাপনের অসাধারণ কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম হয়েছেন ।বইটি মূলত নিয়াজ নামের এক সাধারণ ছাত্রের ফার্স্ট বয় হওয়ার জন্য মনের মধ্যে যে লালিত স্বপ্ন অবয়ব তা বাস্তবায়ন ধারায় পরিণত করার কাহিনী ।গল্পের
প্রথমে নিয়াজ খুব সাধারণ ছাত্র থাকে । সে নিজের ক্লাসের পড়ার গুরুত্ব অনুধাবন না করে পত্রিকা ,অন্যান্য বই পড়ে ।প্রথম দিকে তার মা ও তাকে ক্লাসের পড়ার চেয়ে জ্ঞানার্জন করার জন্য পত্রিকা ,অন্য বই পড়তেই বেশি অনুপ্রানিত করতেন ।কিন্তু পরে স্কুলের ফার্স্ট গার্ল নিশির মায়ের গার্ডিয়ানদের মধ্যে অনেক সমাদর
দেখে তিনিও ফার্স্ট বয়ের মায়ের সেই সমাদর, গুরুত্ব পাবার আকাঙ্খায় আকৃষ্ট হন । আর সেজন্যে এরপর থেকে নিয়াজকে তার ক্লাসের পড়ায় বেশি গুরত্ব দিতে বলেন ।এভাবে নিয়াজের লেখাপড়ার উন্নতি হতে থাকে ।সে একদিন একটা বইও পুরস্কার পেয়ে যায় ।কি জন্যে জানেন ?ক্লাসে একদিন গণিত স্যার পরবর্তী চ্যাপ্টারের অঙ্ক করতে দিয়েছিল ,আর তা ক্লাসের কেউ তো পারেই নি এমনকি ঐ ফার্স্ট গার্ল নিশিও নয় ।নিয়াজের এই অগ্রগতি দেখে নিশি তো রীতিমত অবাক হয়ে যায় , ওর মনে সন্দেহও জাগতে শুরু করে,' আমি এবার ফার্স্ট থাকতে পারবো তো ।'
এদিকে নিশির অন্তরঙ্গ বান্ধবী ,খেলার একমাত্র সাথী জিনিয়া মারা যায় ।আর সেই শোকে নিশির পড়ার ক্ষতি হতে থাকে ।
নিশি সেবারের মত ফার্স্ট হতে না পারলেও ঘুরে দাঁড়াবার প্রত্যয় নিয়ে নতুন করে শুরু করে সে ।আর নিয়াজের এই সাফল্যের জন্য যে তাকে কত সাধনা করে হয়েছিল !
বইটির প্রতি পাতায় একজন ভাল ছাত্র কি করে ,আর একজন সাধারণ ছাত্র কেন সাধারণ তার কারণ উপলব্ধি করা যায় ।তাই যে কোন কিশোর কিশোরী শিক্ষার্থীদের কাছে বইটি অনেক অনুপ্রেরণামূলক হবে বলে আমার মনে হয় ।