নবীজীর বরকতময় শুভজন্ম প্রশ্ন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শুভজন্মের দিন, তারিখ, এবং মাস বর্ণনা কর । উত্তর : সোমবার ৯-ই রবিউল আউয়াল, ২০-শে এপ্রিল ৫৭১ ঈসায়ী মোতাবেক পহেলা জ্যৈষ্ঠ ৬২৮ বিক্রমী সালে জন্মে গ্রহণ করেন । প্রশ্ন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সময় দুনিয়াতে আগমন করেন? উত্তর : ফজরের নামাজের সময় অর্থাৎ সুবহে সাদিকের পরে এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে। প্রশ্ন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শুভজন্ম কোন বছর হয়েছে? উত্তর : হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর জন্মের ৫৭০ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ৫৭১ ঈসায়ীতে, যে বছর হস্তি বাহিনীর ঘটনা সংগঠিত হয়। প্রশ্ন : কারা হস্তিবাহিনী এবং তাদের ঘটনাটি কি? উত্তর : হাবশার পক্ষ থেকে ইয়ামানের গভর্নর ছিল “আবরাহা”, তার এই ভাবনা হল যে, সে কাবা গৃহকে ধ্বংস করে দিবে, যাতে তার ওখানে নকল কাবার প্রচলন ঘটে । যা সে ইয়ামানের সানআ শহরে নির্মাণ করে। সুতরাং সে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কায় হামলা করে। যার মধ্যে হাতিও ছিল, কাবা ঘর ধ্বংস করার জন্য যখন তারা মক্কায় প্রবেশ করলো তখন আল্লাহ তায়ালা ছোট ছোট পাখির মাধ্যমে তার সমস্ত সৈন্যকে নিশ্চিহ্ন করে দিলেন। আর “আসহাবে ফিল” এর অর্থ হল “হাতি ওয়ালা” আর এই সমস্ত লোকগণই এর দ্বারা উদ্দেশ্য। প্রশ্ন : আবূ রাগাল কে? এবং লোকেরা তার কবরের উপর কেন পাথর মারত? উত্তর : আবূ রাগাল এক ব্যক্তি, সে আবরাহাকে তার স্বজাতির সাথে গাদ্দারী এবং ধোঁকাবাজি করে পথ দেখিয়ে দেয়। আল্লাহ তায়ালা হস্তিবাহিনীর সাথে তাকেও ধ্বংস করে দেয়। এখনও তার কবরের উপর লোকেরা পাথর নিক্ষেপ করে থাকে। কারণ হলো যে, যাতে মানুষ জেনে রাখে, জাতির সাথে গাদ্দারীর শাস্তি ডশ হতে পারে?
মাওলানা সায়্যিদ মুহাম্মাদ মিয়া রহ. ছিলেন একজন শেকড়সন্ধানী ঐতিহাসিক। রাজনীতির বিক্ষুব্ধ ময়দানেও ছিল তার সরব পদচারণা। দরস ও তাদরীসের মসনদে তিনি ছিলেন একজন তুলনারহিত শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ। একাধারে মুফতী, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও বিদগ্ধ আলেমেদ্বীন। নন্দিত আলোচক ও প্রজ্ঞাবান খতীব। তবে লেখালেখি ও রচনাকর্মে তিনি সবচেয়ে বেশি গভীরভাবে জড়িয়ে ছিলেন। তার ভেতরগত যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্ব সবচেয়ে বেশি উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে কালি ও কলমের সাহচর্যে। সবকিছু ছাপিয়ে লেখকসত্তাটাই তাকে সবচেয়ে বেশি বাক্সময় করে তুলেছে। বিভিন্ন বিষয়ে তার একাধিক রচনাবলী রয়েছে। তার যেকোনো একটা বই খুলে দেখলেই বোঝা যায়, লেখালেখির সাথে তার আত্মিক সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল! ইসলামের ইতিহাস, বরেণ্য মনীষীদের জীবনী, স্বাধীনতা আন্দোলন, রাজনৈতিক ও জাতীয় বিষয়াবলী, সীরাত ও জীবনচরিত, ফিকহ ও ফতোয়া, শাইখুল ইসলাম মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.-এর নির্বাচিত তাফসীর — এ সবই তার অনবদ্য কলমের কীর্তি। গল্প-কাহিনির রসালো কথা থেকে শুরু করে জাতীয় বিষয়ের ওজস্বী কথা; সবই আছে তার লেখায়। ছোট-বড় সব মিলিয়ে তার পঞ্চাশেরও অধিক রচনা আজও স্মৃতির প্রদীপ হয়ে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। তার প্রতিটি লেখায়ই উন্নত লক্ষ্য, চিন্তার খোরাক, নতুন কিছু ভাবনা, জীবন্ত চেতনা, সৃজনশীলতা, ভাষার সাবলীলতা আর আলোচনার সরলতা যেন খোদাই হয়ে আছে। তবে স্বীকার না করে উপায় নেই যে, তার রাজনৈতিক কলাম ও রচনা মান ও পরিমাণ — উভয় দিক থেকেই পাক-ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক তুলনারহিত সংযোজন। তার কয়েকটি রাজনৈতিক রচনার নাম নিচে তুলে ধরা হলো। উলামায়ে হিন্দ কা শানদার মাযী (৪খণ্ড) উলামায়ে হক এবং তাদের সংগ্রামী অবদান (২খণ্ড) শায়খুল হিন্দের রেশমী রুমাল আন্দোলন মাল্টার বন্দীবীর জমিয়তুল উলামা কী ও কেন? (২খণ্ড) এছাড়াও জমিয়তুল উলামা হিন্দের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমের পরিচিতি তুলে ধরতে তিনি অসাধারণ ভূমিকা রাখেন। জমিয়তের বিভিন্ন কর্মসূচি ও দৃষ্টিভঙ্গির যৌক্তিকতা এবং বিরোধীদের আপত্তির যুৎসই জবাবসম্বলিত তার অসংখ্য রচনা পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মুহূর্তে তার ঐতিহাসিক লেখা ও ফতোয়া বিদ্যুতের মতো আলোর ঝলকানি তুলে দিয়েছে। তার প্রতিটি লেখাতেই চেতনার দীপ্তি আর সুপথের দিশা ঝলমল করে ওঠে। ভাষা, সাহিত্য ও চেতনার এমন বিপ্লবী ঝংকার তার সময়ে আর কোনো কলমে ঝংকৃত হয়েছে কিনা সন্দেহ! জমিয়ত পাবলিকেশন্স সেই প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই কীর্তিমান ঐতিহাসিক মাওলানা সায়্যিদ মুহাম্মাদ মিয়া রহ.-এর রচনাবলী প্রকাশে অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছে। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা তার অনবদ্য রচনাগুলো সংগ্রহ করে সেগুলো প্রকাশ করা জমিয়ত পাবলিকেশন্সের অন্যতম একটি লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ অনেক দূর এগিয়েও গেছে। সাহাবাদের সোনালি যুগ, মাল্টার বন্দীবীর, শায়খুল হিন্দের রেশমী রুমাল আন্দোলন, উলামায়ে হক এবং তাদের সংগ্রামী অবদান, আগামী বিপ্লবের রূপরেখা — জমিয়তের এই বইগুলো ইতিমধ্যেই পাঠকমহলে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। খোদার রহমের উপর ভরসা করে জমিয়ত এবার পাঠকের হাতে তুলে দিচ্ছে উলামায়ে হিন্দ কা শানদার মাযী। সায়্যিদ সাহেব এ রচনাটিও অত্যন্ত উতালপাতাল ও বিক্ষুব্ধ সময়ে সম্পন্ন করেছিলেন। ওই সময়টা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের জন্য খুবই কঠিন একটা পরীক্ষাকাল ছিল। সায়্যিদ সাহেবসহ জমিয়তের নীতিনির্ধারক সকল নেতৃবৃন্দই তখন একটা চরম সময় পার করছিলেন। চার খণ্ডে সমাপ্ত এই রচনা আশা করি সবার সামনেই নতুন কিছু তথ্য ও ইতিহাস পেশ করতে পারবে। সর্বোপরি পাক-ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকবে কালোত্তীর্ণ এই রচনাটি।