#আড্ডাখানায়রকমারি
#বুকরিভিউ_২০২৩
পড়ে ফেললাম হাসান রোবায়েতের কবিতার বই 'কুসুম তার সবটুকু জানে'। পুরো বইটি জুড়ে কবিতা আছে ৪৮ টি। ঠিক কবিতা বলা যায় না, বলা যায় হাসান রোবায়েতের সহজাত নিজস্ব একগুচ্ছ শব্দের খেল। বইটির মনোমুগ্ধকর প্রচ্ছদ করেছেন রাজিব দত্ত। প্রচ্ছদ দেখেই মনে হয়েছিল একগুচ্ছ হাহাকারের বহিঃপ্রকাশ। হাসান রোবায়েত তার এই বইটির প্রত্যেকটি কবিতাতে যে বিচ্ছেদের সুর, না পাওয়ার বেদনা কিংবা পেয়ে হারিয়ে ফেলার যে নিদারুণ যন্ত্রণা, দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া ভাঙা হৃদয়ের চাপা যে আর্তনাদ দেখাতে চেয়েছেন তারই ভিজুয়্যাল এই প্রচ্ছদ।
লেখার ধরণের কথা বলতে গেলে শুরুতেই বলেছি সহজাত নিজস্ব শব্দের খেল! হাসান রোবায়েত নিজস্ব একটি ধারা তৈরী করতে পেরেছেন এখানেও। 'তাকায়া, কইরো না, মইরা, বইসা' ক্রিয়ার এই টাইপ ব্যবহার সহজেই আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। কর্তার ব্যবহারেও এমন ব্যবহার লক্ষণীয় ছিল। যেমন- তোমারে, আমারে। এর আগেও বেশ কয়েকবার আমি বলেছিলাম হাসান রোবায়েতের মেটাফের এই মুহুর্তে বেশ স্ট্রং। এবং এই বইটিতেও সেই জিনিস পেয়েছি। উনি তার লেখায় কখনো মক্তবের দেয়ালে নিয়ে যান, তো কখনো কাবা থেকে কাফেরের দূরত্বে নিয়ে যান, আবার কখনো নিয়ে যান তাবলিগে। কখনো মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি কখনো শোনান সারেঙ্গির সুর!
শেষ কিন্তু শেষ না:- হাসান রোবায়েতের কবিতা পড়ে আমার মনে হয়েছে এই কথাগুলোই আমরা বারবার বলতে চাই। আমাদের বিচ্ছেদের পর দমবন্ধ সময়ে যেইসব চিন্তাভাবনা, কল্পনা আসে সেগুলোই উনি মলাটবদ্ধ করেছেন।
চলুন কিছু কবিতা পড়ে নেওয়া যাক,
তোমার জন্য সবুর করা
আল্লার
রহমতের দিকে
তাকায়া থাকার মতন-
যার চইলা গেছে, সে-ই বোঝে
ফাঁকা দোলনার তরঙ্গ কতখানি ধু ধু-
এই যে তোমারে পাইলাম না
অথচ সারাজীবন পাইতে চাইবো
এ-ও কি ভালোবাসা নয়-!