Category:সমকালীন গল্প
হই-হল্লা চিৎকার চেঁচামেচি, বাদাম ডাব কলা কেক পেপসি অরেঞ্জ-স্কোয়াশ, কোথাও সিগ্রেট বলে লম্বা হাঁক। ফেরির ওপর ব্রেক কষে দাঁড়ানো সারি সারি বাস-ট্রাক-প্রাইভেট কার-মাইক্রো। যাত্রীরা ফেরির ডেকে গুলতানিতে, ধোঁয়া ফুঁকতে অথবা ফ্যালফ্যাল করে নদীর চলমান জল দেখতে ব্যস্ত। সে, রাখী, সুনয়না নয় বটে, তবে উত্তপ্ত মুখশ্রী অধিকার করে আছে।
সহযাত্রীদের তন্দ্রাচ্ছন্ন মুখের দিকে তাকাচ্ছে যেন পরিচিতি- তাও হয়ত নয়, তাদের অবসরভঙ্গির দিকে, কিংবা নদীর মধ্যভাগে দাঁড়িয়ে ফেলে আসা পূর্ব প্রান্তের দিকে। সহযাত্রীর ঘাড়ে হাত রাখতেই চোখ খুলল, চল নিচে যাই। শুনেই বিরক্ত হলো, বলতে চায়, এসি তো বন্ধ করেনি, আবার ঘুমিয়ে পড়ল। চল না। ঘাড়ে ঠেস দিয়ে সোজা করল তাকে, চল। চোখ রগড়ে নিল, বাচ্চারা যেরকম করে। যেন এও এক সরলতা, হাসল। শার্ট ধরে প্রায় টানতে টানতে তাকে নিচে নামাল। বাসে বাসে প্রায় ঘষাঘষি, সুবিধা করতে না পেরে ছাদে উঠল। একটা তীব্র হাওয়া, তাদেরকে উড়িয়ে নেবার জন্য প্রস্তুত, ওড়াতে থাকল তার নাতিদীর্ঘ চুল, ঘাড় পর্যন্ত দীর্ঘ।
Report incorrect information