মোহাইমিন আরেফিন সাহেবের “আবরণ” পড়ার কথা ছিল মাসখানেক আগেই‚ কিন্তু পরীক্ষার কারণে আর হয়ে ওঠেনি। আজ অবশেষে আবরণ পড়ে শেষ করলাম।
পাঠ প্রতিক্রিয়া: আবরণ পড়তে গিয়ে শুরুতে আমি একটু বিরক্তই হচ্ছিলাম। বিরক্ত হওয়ার কারণ লেখা খারাপ বা গল্প খারাপ হওয়া না। বিরক্ত হচ্ছিলাম গল্পের মোটিভ বুঝতে না পেরে। প্রায় ৮০-৯০ পেইজ পর্যন্ত পড়ার পরও মোটিভ বা এজেন্ডা বুঝতে পারছিলাম না। তারপরে আস্তে-আস্তে সবটা রিভিল হতে লাগলো। এতো-এতো বিষয় টেনে এনেছে লেখক যে‚ কোনো এক বিষয় নিয়ে ভাবা সম্ভব হচ্ছিল না। এরকম জটিল মার্ডার মিস্ট্রি আমাদের দেশীয় থ্রিলার জনরার বইগুলোতে আগে পাইনি। আরেকটা বিষয় যেটা আমার খুব ভালো লেগেছে‚ সেটা হলো তদন্তের কার্যপ্রক্রিয়া পুরোটাই একদম দেশীয় স্টাইলে দেখিয়েছে লেখক। তদন্তে কোনো বাড়াবাড়ি নেই‚ বাইরের দেশের কোনো ছায়া নেই। এজন্যই আবরণ পড়ে দেশীয় আইন ব্যবস্থার হাল-বেহাল বেশ ভালো বোঝা যায়। তাছাড়া‚ পোস্টমর্টেম আর এরকম চিকিৎসা জ্ঞান বিষয়ক আলোচনাগুলোতে লেখক এতো বেশি টেকনিক্যাল কথাবার্তা ব্যবহার করেছেন‚ যেগুলো পড়ে অনায়াসে বোঝা যায় লেখকের পেশাগত জীবনের জ্ঞান বইয়ে একেবারে উগড়ে দিয়েছেন। এসব চিকিৎসা বিদ্যার এতো গভীর আলোচনা অন্য কোনো মার্ডার মিস্ট্রি জনরার বইয়ে কিংবা জনপ্রিয় ক্রাইম থ্রিলার সিনেমা/সিরিজেও চোখে পড়েনি। এগুলো ছাড়াও মূল চরিত্র কাওনাইনের চরিত্রটাকে অনেকটা গ্রে ক্যারেক্টার লেগেছে। এই বিষয়টাও বেশ ইউনিক। সাধারণত আমরা মূল চরিত্রকে দেবদূত বানিয়ে ফেলি। তবে এখানে কাওনাইনের গ্রে চরিত্রটাকেই অনেক বেশি আকর্ষণীয় লেগেছে। তার সাথে কাওনাইনের পারিবারিক অতীত‚ ব্যক্তিগত জীবন‚ প্রেম‚ সম্পর্কের টানাপোড়েন সব মিলিয়ে তদন্তের বাইরেও আলাদা একটা শীতল/উষ্ণ আবরণ তৈরি হয়েছে‚ যেটা মাঝে-মাঝে পাঠক হিসেবে আমার মস্তিষ্কে চলা জটিলতাগুলোকেও থামিয়ে দিচ্ছিল। আমাদের দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে যারা থাকেন‚ তাদের জীবন-আচরণ-চরিত্র সবকিছু নিয়েই স্বচ্ছ একটা ধারণা পাওয়া যায়। একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো‚ বইয়ের সবগুলো চরিত্রই গ্রে টাইপ‚ অর্থাৎ কেউই খুবই ভালো কিংবা খারাপ নয়। কখনো ভালো, আবার কখনো খারাপ। প্রত্যেকটা চরিত্রেরই নিজস্ব কিছু কালো রহস্য আছে‚ যেরকমটা আমাদের সবারই থাকে। আমি বেশ উপভোগ করেছি আবরণ। মার্ডার মিস্ট্রি নিয়ে আগ্রহ থাকলে আবরণ অবশ্যই রেকোমেন্ডেড।
★ গল্পের শেষে সিকুয়েলের হিন্ট আছে। ভালো ব্যাপার হলো‚ আবরণের সিকুয়েল “আবৃত”ও আমার সংগ্রহে আছে।