সাউথ লন্ডন পার্কের একটি লেকে বরফ জমাট বাঁধা এক তরুণীর লাশ পাওয়া গেল। ভয়ংকর নির্যাতন করে তাকে খুন করা হয়। তরুণীর নাম আন্ড্রেয়া ব্রাউন। সে লর্ড সাইমন ডগলাস ব্রাউনের মেয়ে।
ঘটনা তদন্তের জন্য ডাক পড়ে ডিটেকটিভ এরিকা ফস্টারের। আপাতত দৃষ্টিতে সাধারণ খুন ঠেকলেও, তদন্ত শুরু করার পর এরিকা বুঝতে পারে, এই খুনের রহস্য বরফের মতোই জমাটবাধা।
তদন্তের মাঝখানে অদ্ভুত একটি তথ্য খুঁজে পায় এরিকার সহকর্মী আইজ্যাক স্ট্রং। ক্লোজড ফাইলে অতীতে খুন হওয়া তিনটি খুনের সাথে মিল আছে আন্ড্রেয়ার খুন এবং আন্ড্রেয়া সম্পর্কে তথ্য দিতে চাওয়া সদ্য খুন হওয়া আইভি নরিসের।
ভিক্টিমদের সবার হাত পেছন দিকে বাঁধা ছিল। তাঁদের নির্যাতন করা হয় এবং মাথার চুল উপ্রে ফেলা হয়। ঐ তিনটি মেয়েকে ইউরোপের অন্যান্য জায়গা থেকে লন্ডনে নিয়ে আসা হয়। মৃত্যুর সময় তাঁদের ওপর করা যৌন নির্যাতনের চিহ্ন ছিল এবং তাঁদের সবার পতিতাবৃত্তির রেকর্ডও রয়েছে!
পতিতাবৃত্তির সাথে কী সম্পর্ক থাকতে পারে একজন লর্ডের মেয়ের? ময়নাতদন্তের রিপোর্টে অবশ্য যৌনতার আলামত পাওয়া গিয়েছে! কী রহস্য লুকিয়ে আছে এসবের ভেতর?
যেকোনো খুনের প্রাথমিক সন্দেহভাজন হয় ভিক্টিমের পরিবার এবং নিকটাত্মীয়রা। এক্ষেত্রেও এরিকা একে একে জিজ্ঞাসাবাদ করে স্যার ডগলাস পরিবারের সবাইকে। কিন্তু তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
অন্যদিকে খুনিও থেকে নেই তাঁর খুনের নেশা থেকে। একরাতে আচমকা এরিকার ফ্ল্যাটে আক্রমণ করে বসে খুনি। এতে বুঝা যায় এরিকা সঠিক পথেই এগুচ্ছে। আর খুনি অবশ্যই একজন পুরুষ। কিন্তু সে কে?
একবার এক রেইডে ক্রসফায়ারে পড়ে মারা যায় এরিকার পুলিশ অফিসার স্বামী। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু, হুমকির মুখে পড়া ক্যারিয়ার, মানসিক অস্থিতিশীলতা, মানসিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, একবার অব্যহতি- সবকিছু ছাড়িয়ে এরিকা পারবে কি ভয়ংকর এই খুনির সন্ধান বের করতে?
বইমেলা ২০২০ এর বই “দ্য গার্ল ইন দি আইস” পড়ে ফেলেছিলাম মেলার মাসেই এবং প্রথম বইটিই মাৎ করে দিয়েছিল আমাকে। বইটির পাঠপ্রতিক্রিয়া তাই শেয়ার করছি। অসাধারণ একটি মার্ডার মিস্ট্রি বই। মারভেলাস!
‘কে খুনি’ জাতীয় উপন্যাসে সাধারণত খুন সংগঠিত হয় কিন্তু খুনি কে- তা দেখানো হয় না। এজাতীয় উপন্যাসে খুনিকে খুঁজে বের করতে পাঠকের চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ থাকে। বইটির শেষ চার ভাগের তিন ভাগ পড়েও খুনিকে ধরতে পারছিলাম না। কিন্তু যখন পারলাম তখন আমি নিজেই দৌড়ের ওপরে!
যারা বইটি কিনেছেন, ফেলে না রেখে পড়ে ফেলুন দ্রুত। আর যারা কিনেননি, কিনে ফেলুন। হাইলি রেকমেন্ডেড বই। বইটির অনুবাদ, পাতার মান, প্রচ্ছদ, মলাট, মূল্য সব মিলিয়ে পারফেক্ট একটি বই। বলতে গেলে মানের দিকে এটি আদী প্রকাশনীর সেরা বই। হাতে নিয়ে বুকে চেপে রাখতে ইচ্ছে করে।
অসাধারণ অনুবাদ করেছেন অনুবাদক। এককথায়- মাস্টারওয়ার্ক। আশ্চর্যের কথা হচ্ছে, এটি অনুবাদকের প্রথম বই, অথচ কতো পরিণত ঝরঝরে লেখা। অনুবাদকের হাত আরো বিস্তৃত হোক। বইটি পড়ে আমি তৃপ্ত এবং সন্তুষ্ট।
Was this review helpful to you?
By Asaduzzaman Khan, Apr 15, 2020
অনুবাদে ছোট ছোট বাক্য ব্যবহার করেছেন, সেজন্য পড়তে আরাম লেগেছে একটু। এরপরও অনুবাদটা কেমন যেন খাপছাড়া লেগেছে। মাঝে মাঝে আক্ষরিক লেগেছে। ফ্লো বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আরেকটু গুছিয়ে লিখলে ভালো হতো। তবে, অনুবাদকের প্রথম বই হিসেবে উৎরে গেছেন। কিছু বিষয়ের দিকে নজর থাকলে সামনে আরও ভালো হবে ওনার অনুবাদ।