পর্যালোচনা:
অঙ্কুরে বিনষ্ট হওয়া বলে যে কথাটা প্রচলিত অাছে সুকান্ত তার প্রকৃত উদাহরণ, বাংলা সাহিত্যে যে নক্ষত্র জ্বলজ্বল করছিল তা কেবল ক্ষণিকের জন্য। মাত্র একুশ বছর বয়সে তিনি সাহিত্যে যে মাত্রা যোগ করছেন তা অনস্বীকার্য। বয়স বাড়লে কম বয়সি কাঁচা হাতের লেখা নিয়ে লেখকদের অনেক খুঁতখুঁতে স্বভাব হয়, এদিক থেকে সুকান্ত সমগ্রতে লেখকের অপরিনত বয়সের লেখার ছাপ ঠিকই অাছে কিন্তু সেসব যেন পরিনত লেখার তুলনায় কোন অংশে কম নয়। মাত্র একুশ বছর বয়সেই তাই তিনি লিখতে পেরেছেন 'ছাড়পত্র' কিংবা 'পূর্বাভাস' এর মতো কাব্যগ্রন্থ।
একুশ বছরের জীবনে তিনি যে "অাঠারো বছর বয়স" নামক কবিতা লিখেছেন এখনো সে কবিতা কাঁপন জাগায় মনে। বেঁচে থাকলে তার বয়স বাড়তো নতুন নতুন গল্প কবিতায় সমৃদ্ধ হতো বাংলা সাহিত্য। কিন্তু এখন মনের চিলকোঠায় একুশ বছরেই থমকে অাছে গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত এক যুবকের ছবি। যার কবিতায় রানার ছুটে চলে রাতদুপুরে পিঠে খবেরর বোঝা নিয়ে।
সুকান্ত তার ব্যক্তি জীবনে কেমন ছিল তার অনেকটাই পরিচয় পাওয়া যায় বন্ধু অরুনাচল বসুকে লেখা চিঠিতে। এছাড়াও সমগ্রটাতে তার ব্যক্তিগত জীবনের বেশ কিছু চিঠি অাছে। যেখানে তার সাহিত্য, রাজনীতি অার শেষ জীবনের হাসপাতালে কাটানো দিনের কথা অাছে। অারো অাছে বেশ কিছু অপ্রচলিত রচনা গল্প, গান।
নিজস্ব মতামত:
সুকান্তকে একান্ত ভাবে জানা হয়তো এজীবনে সম্ভব না। ক্ষণজন্মা এ নক্ষত্র এত সল্প সময়ে অামার পাঠক মনে কতটা জায়গা নিয়েছে তা নিজেও বলতে পারি না। কেবল জানি এভাবে না গেলেওে পারতো! তার ঠিকানা কবিতায় যেন তাই অামাকে বলে গেছে তার অবস্থানের কথা-
'ঠিকানা অামার চেয়েছ বন্ধু-
ঠিকানার সন্ধান,
অাজএ পাও নি? দুঃখ যে দিলে করব না অভিমান?
ঠিকানা না হয় না নিলে বন্ধু,
পথে পথে বাস করি,
কখনো গাছের তলাতে
কখনো পর্ণকুটির গড়ি।
অামি যাযাবর, কুড়াই পথের নুড়ি,
হাজার জনতা যেখানে, সেখানে
অামি প্রতিদিন ঘুরি।'
তার কবিতায় যে দেশপ্রেম, যে অঙ্গিকার ছিল তা কালোত্তীর্ণ। সব যুগের, সব কালের জন্য যেন সেসব কবিতা। কেবল কবিতাই নয়। তার লেখা কিছু গল্প, গানও অাছে যদিও তা সাধারন পাঠকের অাড়ালেই রয়ে গেছে। সুকান্ত একটা ভালোবাসার নাম, একগুচ্ছ রঙিন স্বপ্নের ছবি। সমগ্রটা তাই প্রাণপাখির মতো অামার কাছে। সুকান্তে জানতে তাই পড়তে পারেন অাপনিও 'সুকান্ত সমগ্র' যেখানে প্রচলিতের বাইরের সুকান্তকে একটু হলেও জানা যাবে।