রাশিয়ান সাহিত্যে তখন বাস্তববাদ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হচ্ছে। দস্তয়ভস্কির এই উপন্যাসও মনস্তাত্ত্বিক বাস্তববাদ নিয়ে। আমরা এখন অনেক গল্প উপন্যাস পড়ি যেখানে জীবন যেমন জটিল, অপ্রত্যাশিত, নিষ্ঠুর এবং অতিরঞ্জনহীন, তেমনই দেখা যায়, অতিরঞ্জন মাত্রা নিয়ন্ত্রিত। ১৯ শতকের আগের ব্যাপারটা এমন ছিল না। সাহিত্য মানেই জীবনকে অতিরঞ্জিত করে দৃশ্যায়ন করার মাধ্যম ছিল। রাশিয়ান সাহিত্যে এবং তখনকার সমসাময়িক আরও অনেক দেশের সাহিত্যে বাস্তববাদ বা রিয়্যালিজম ফুঁটে ওঠে ১৯ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। ঐ সময়কার অন্যতম জনপ্রিয় বই- ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট।
রাসকলনিকভ এই গল্পের নায়ক। সুদর্শন এক যুবক সে, আইনের ছাত্র ছিল, তুখোড় বুদ্ধি তার এবং নিজেকে নিয়ে তার বেশ উঁচু ধারণা। সেন্ট পিটার্সবার্গে একটা ভাড়া বাসায় থাকে। বাড়ি থেকে কিছু টাকা পাঠায় তাঁকে তার মা। টাকাটা তার জীবন যাপনের জন্য পর্যাপ্ত নয়। রীতিমতো দরিদ্র হাল তার। এভাবে তার জীবন কাটে। টাকা পয়সা এবং বুদ্ধিমত্তা, দু’টো মিলে বেশ একটা মানিকজোড়! কোন একটার অনুপস্থিতি পুরো ব্যবস্থাটাকে ভারসাম্যহীন করে তোলে।
গল্পের আলোচনায় না গিয়ে বইটির নির্যাস এভাবে ব্যাখ্যা করা যায়- রাসকলনিকভ একটা মতবাদ তৈরি করে নিজের ভেতর। তা হলো, কেউ যদি বুদ্ধিমত্তায় আর দশজনের চেয়ে উঁচু হয়, সভ্যতার ভালোমন্দ আর দশ জনের চেয়ে বেশি বোঝে, তাহলে তাদের অপরাধ করার স্বাধীনতা থাকা উচিত, যে অপরাধের বদলে মানব জাতিকে তারা সুন্দর কিছু উপহার দিতে পারে!
রাসকলনিকভ সেই মতে দু’টো খুনও করে। খুন করেও সে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে থাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে সে নিজের গভীর মনস্তত্বে নিজেই ডুবে একসময় খুনের কথা স্বীকার করে; বিশেষ করে যখন সে জানতে পারে তার প্রেমিকার আত্মীয় ছিল তার হাতে খুন হওয়া একজন। গল্পের নামের মতো গল্পটাও সোজা সাপ্টা- ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট। প্রথমে অপরাধ পরে তার দন্ড। মাঝখানে ঘটে যাওয়া ঘটনা ও আইডিওলজি নিয়েই পুরো উপন্যাস।