পশুসম্পদের উন্নয়ন কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন
- এম. এ. মজিদ
বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। কিন্তু কৃষি নির্ভর অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করতে হলে প্রধান উপখাত হিসেবে প্রাণী সম্পদকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে আমিষের চাহিদা পুরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে সরকার প্রাণী সম্পদ খাতকে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখছে। প্রতি বছর এ খাতে আর্থিক বরাদ্দের হার বৃদ্ধি করে চলেছে। কিন্তু এই বরাদ্দের হার কেবল প্রনোদনার আওতায় না এনে স্থায়ী করা প্রয়োজন। দারিদ্র বিমোচনে পশু সম্পদের উপখাত বিশেষ করে দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন কার্যক্রম বিশেষ অবদান রাখছে। আমিষের চাহিদা পূরণ রপ্তানী আয় বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষম নারী সমাজ গঠনে পশু সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আমাদের চাহিদার তুলনায় বেশি দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনার সাথে সরকারের সহযোগীতা সম্পৃক্ত হলে চাহিদা পূরণ শেষে রপ্তানীর দ্বার প্রসারিত হতে পারে। বর্তমান সরকার চাষীদের দুধ, মাংস ও ডিমসহ প্রাণী সম্পদ সমৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সাময়ীক প্রনোদনা সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। কেবল প্রনোদনা নয় প্রাণী সম্পদ উন্নয়নে সরকারের বার্ষিক আর্থিক বরাদ্দের হার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বর্তমান সরকার প্রাণী পালনকারীদের ভেড়া ও মহিষ চাষ বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন। দেশের ডেইরি শিল্পের বিকাশে আমদানী দুধে অতিরিক্ত করারোপ করা হয়েছে। এতে করে ভোক্তারা দেশীয় খামারে উৎপাদিত দুধ ব্যবহারে উৎসাহিত হবে। বাংলাদেশে পশু সম্পদ পারিবারিকভাবে লালন-পালন করা হয়। তবে খামার ভিত্তিক পশু শিল্প প্রতিষ্ঠানও রয়েছে বেশ কিছু। দেশে পশু পালনের ক্ষেত্র একেবারে কম নয়। চরাঞ্চল, হাওড় অঞ্চল ও দেশের উত্তর ও উত্তর-পূবাঞ্চলের পাহাড়ী টিলা এবং বিরানভূমিকে পশু পালনের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেয়া হলে পশু সম্পদে সমৃদ্ধিলাভ করবে বাংলাদেশ একই সাথে চাহিদার তুলনায় অধিক দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন নিশ্চিত হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে। তবে এ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার হওয়া দরকার।