====== কাহিনী সংক্ষেপ ======
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা তখনো বেজে চলছে ইউরোপে। বিভিন্ন ফ্রন্টে জার্মান বাহিনী কিছুটা মার খেয়ে পিছিয়ে পড়লেও কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে যে, হিটলারের বাহিনী এমন কিছু বিধ্বংসী শক্তি নিয়ে গবেষণা করছে; যা তাদের বিশ্বব্যপাী জয় সুনিশ্চিত করবে। প্রয়োজন হলে সেটা মানবতা বিধ্বংসী কোন ভয়ানক অস্ত্র হলেও তা ব্যবহার করতেও তার বাহিনী পিছু হটবে না!
এই খবর মিত্রবাহিনীর শিবিরে পৌঁছালে সেখানেও শুরু হয়ে যায় সেই বিধ্বংসী অস্ত্র নির্মাণের প্রতিযোগীতা। কারণ যুদ্ধের এই পর্যায়ে এটা সুস্পষ্ট যে, এই যুদ্ধে বিজয়ের শেষ হাসি সেই-ই হাসবে যার কাছে আগে থাকবে পারমাণবিক বোমা! এই উদ্দেশ্যে পদার্থবিজ্ঞানী রবার্ট ওপেনহাইমারের নেতৃত্বে ও বাঘা বাঘা গবেষক-বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে অত্যন্ত গোপনে মিত্রবাহিনী শুরু করে প্রজেক্ট ম্যানহাটন।
সবকিছুরই যেমন একটা চ্যালেঞ্জ থাকে ঠিক তেমনি ম্যানহাটন প্রজেক্টের তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়ায় একজন ইহুদী পদার্থবিজ্ঞানী প্রফেসর আলফ্রেড মেন্ডেল; যার গবেষণা ও সহযোগীতা ছাড়া নাৎসিদের সফলতার আগেই ম্যানহাটন প্রজেক্টকে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। কিন্তু তিনি এখন নাৎসি বাহিনীর রোষানলে পড়ে পরিবারসহ আটকা পড়েছেন পৃথিবীর নরকখ্যাত অশৎউইয নামক ক্যাম্পে; যেখানে কেউ আটকা পড়লে জীবিত ফেরার আর নজির নেই। জার্মান নাৎসি বাহিনীর কাছে এখন মেন্ডেলের পরিচয়, খ্যাতি ও গবেষণার কোন মূল্যই নেই। বরং তিনি এখন শুধু এক নম্বরধারী ঘৃণ্য ইহুদী বন্দী।
তাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের নির্দেশে শুরু হলো বিজ্ঞানী আলফ্রেড মেন্ডেলকে নাৎসি বাহিনীর কবল থেকে উদ্ধারের এক প্রায় অবিশ্বাস্য মিশন। যা শুধু কঠিনই নয়, বরং অসম্ভই বলা চলে। সেই অসম্ভবকেই বাস্তবায়ন করতে নিজের প্রাণ হাতে নিয়ে ছুটলেন লেফটেন্যান্ট নাথান ব্লুম। কিন্তু নাথান কি পারবে মেন্ডেলকে উদ্ধার করে ২য় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে? নাকি সেই নরকখ্যাত অশৎউইয ক্যাম্পেই তার জন্য অপেক্ষা করছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নতুন কিছু?
====== পাঠ প্রতিক্রিয়া ======
২য় বিশ্বযুদ্ধের হিস্টোরিক্যাল ফিকশন নিয়ে পড়া এটাই আমার ২য় বই। বইটি একই অনুবাদকের রচিত ‘ব্ল্যাক ক্রস’ বইটির মতোই পাঠকের মনে ২য় বিশ্বযুদ্ধের যেমন একটি আবহ তৈরি করেছে, তেমনি বইটি একটি থ্রিলিং স্পাই মিশন ও অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদও দিয়েছে পাঠককে। লেখক অ্যান্ড্রু গ্রসের গল্প বুননের পারদর্শিতা যেকোন পাঠককে মুগ্ধ করবে আমার বিশ্বাস। লেখনশৈলী সহজ-সরল ও বোধগম্য। পুরো বইটির কাহিনীই এমন টান টান উত্তেজনা অনুভব করেছি যে, বইটি শুরু করলে হাত থেকে রেখে দেয়ার ইচ্ছে জাগে না। কোথাও কোন বিরক্তিও অনুভব হয়নি। নেই অতিরিক্ত চরিত্রের ঘনঘটা।
অনুবাদক ইমতিয়াজ আজাদ ভাইয়ের অনুবাদ এবারও দারুণ ছিলো, বরং আগেরটির চেয়ে আরোও ভালো লেগেছে। বইয়ের কাহিনীর শেষের দিকেও একটি অপ্রত্যাশিত সুন্দর সমাপ্তি পাঠকের মনকে আরো ভালো করে তুলবে নিশ্চিত। আবার বইটিকে দীর্ঘদিন মনে রাখার আরও একটি উপযুক্ত কারণ হবে এই সমাপ্তি। স্পাই থ্রিলার, অ্যাডভেঞ্চার ও ২য় বিশ্বযুদ্ধের কাহিনীসমৃদ্ধ বই পছন্দ করেন এমন কারোও বইটি মিস করা কোনভাবেই ঠিক হবে না।
প্রোডাকশনঃ কভার ডিজাইন ভালো লেগেছে এবং বইয়ের মূল কাহিনীর সাথে দারুণ মানানসই লেগেছে। ফন্ট সাইজ, পৃষ্ঠার কোয়লিটি ভালো লেগেছে। আর চিরকুটের প্রোডাকশনে এখন পর্যন্ত আমি কোন বইয়ে আশাহত হইনি। তাদের প্রতিটা বইয়েরই প্রোডাকশন টপ নচ।
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০