বিচারপতি কাজী এবাদুল হক তাঁর এই গ্রন্থে যুগে যুগে, দেশে দেশে, বিচার ব্যবস্থার বিবর্তনের ইতিহাস লিখেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের কর্মক্ষেত্র, বর্তমান বাংলাদেশে এসে আমাদের নিজেদের বিচার ব্যবস্থার রূপচিত্রটি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতের জন্য কিছু দিক নির্দেশনার উল্লেক করেছেন। গ্রন্থের বিষয় পরিকল্পনাটি যেমন মহৎ তেমনি বৃহৎও বটে। বিচারপতি কাজী এবাদুল হক এমন একটি বিশাল কলেবরের বিষয় সাব্যস্ত করে যে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, স্বীকার না করে উপায় নেই, তা তাঁর বিষয়ের মতই বিরাট। স্বল্প পরিসরে তিনি ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য বিচার ব্যবস্থাসমূহ সন্নিবদ্ধ করেছেন। আমাদের উপমহাদেশে বিশেষত আমাদের দেশে প্রাচীন হিন্দু আমল থেকে শুরু করে মুসলমান আমল, ব্রিটিশ আমল এবং বর্তমান কাল পর্র্যন্ত আইন ও বিচার ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ ও প্রবণতা সংক্ষেপে হলেও নিষ্ঠার সাথে লিপিবদ্ধ করেছেন। তথ্যপঞ্জি দৃষ্টে অনুমিত হয় যে লেখক যথেষ্ট পরিশ্রম করে বস্তুনিষ্ঠ থাকার সযত্ন প্রয়াস অক্ষুণ্ন রেখেছেন।
বালাদেশের বিচার ব্যবস্থার পটভূমি ও বর্তমান প্রেক্ষিত এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের, যেমন- আইন শিক্ষা, আইন পেশা ইত্যাদি সম্বন্ধে তেমন কোনো সঙ্কলন গ্রন্থ বাজারে খুব বেশী না থাকায় অত্র গ্রন্থটি অত্র বিষয়ে পাঠকদের প্রয়োজন পূরণে সক্ষম হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, অত্র গ্রন্থের বাংলাদেশ অধ্যায়ে লিখিত সকল বিষয় বেশ তথ্যপূর্ণ ও গবেষণামূলক। বাংলাদেশের বিচারকদের বিভিন্ন পদের ও আইনজীবীদের বিভিন্ন পদবির বিবর্তনের ইতিহাস একদিকে যেমন আমাদের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, তেমনি এই গ্রন্থের আকর্ষণীয়তাও বৃদ্ধি করে। এছাড়াও, অন্যান্য দেশের মতো আমাদের বিচার ব্যবস্থাও বর্তমানে নানা সমস্যায় পীড়িত। এ কারণে অত্র গ্রন্থে বিচারপতি এবাদুল হক বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার কিছু দিক উল্লেখ করেছেন এবং তা অতিক্রম করার বিষয়ে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেছেন, যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে।