কথায় আছে নামে কি এসে যায়, আমি এই বইটি স্রেফ নাম দেখে কিনেছিলাম। কিন্তু পড়ার পর মনে করে দেখার চেষ্টা করলাম যে কবে শেষ বার এরকম একটি ভালো সামঞ্জস্শ্যপূর্ণ থ্রিলার বই কোনো বাংলাদেশী লেখক উপহার দিতে পেরেছেন কিনা! আমি বহু টাকা নষ্ট করেছি বাংলাদেশী নব্য লেখকদের এমন একটা লেখা খুজতে গিয়ে। আমি কোলকাতার বহু লেখকের অনেক উন্নতমানের বই পড়েছি সাসপেন্স/থ্রিলারের কিন্তু বাংলাদেশী লেখক একজনকেও পাইনি যে ঠিক মতো একটি এমন মৌলিক বই দিতে পেরেছেন। থ্রিলার/সাসপেন্স মানেই হয় বিদেশী গল্পের ছায়া অবলম্বনে অথবা অনুবাদ। আলীম আজিজ একজন সত্যি উচু মানের মৌলিক থ্রিলার/সাসপেন্স রাইটার। আপনার কাছে আরো অনেক ভালো বই ভবিষ্যতে আশা করি।
এটি মূলত একটি ছোট গল্প বলা যায়। কিন্তু কাহিনীর মোড় শুরু থেকে বইয়ের শেষ পাতা পর্যন্ত আছে। যাকে বলে পাতায় পাতায় শিহরণ। যদিও লেখক আফসারকেই গল্পের ভিক্টিমাইজড নায়ক বানিয়েছেন কিন্তু আমার কাছে বইয়ের প্রতিটি চরিত্র সমান বলবান বলে মনে হয়েছে। সবাই গল্পের নায়ককে বুদ্ধিমান, স্মার্ট, শক্তিশালী আরো কত কিই না বানান, কিন্তু লেখক এখানেই প্রথম টেক্কা দিয়েছেন সবাইকে। নায়ক নিতান্তই সাধারণ, হতবুদ্ধির বা বোকাও বলা চলে টাইপের মানুষ, যে কারণেই একটি খুনের ঘটনায় জড়িয়ে পরা কিছু না করেই। এরপর যিনি খুন হয়েছেন তিনি আরো সাধারণ মানুষ ছিলেন কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে আসে তিনি মোটেই সাধারণ জীবন যাপন করতেন না, চিন্তাধারাও কিছুটা বিকৃত ছিল। তিন জন স্ত্রীলোক এই গল্পে আছেন। একজন অতি মাত্রায় চালাক তরুণী, আরেকজন ব্যভিচারিনী আবার একই সময় ধর্মের দ্বারা প্রভাবিত পরিবেশে থাকা পূর্ণ বিবাহিত বয়স্ক নারী আর রয়েছেন স্বামী দ্বারা দীর্ঘ সময় প্রতারিত আরেক নারী। সব শেষে খুনী, যে কিনা একজন অতি মাত্রায় সাধারণ ধর্মের উপাসক কিন্তু একই সাথে প্রতিশোধপরায়ন। ঢাকার মত ব্যস্ত শহরে একটি জমজমাট প্রেম, খুন, ধাওয়া, চুরি, মারপিট, পুলিশী তদন্ত, সন্তানের প্রতি দায়িত্বহীনতা ইত্যাদি একেবারে জীবন্ত হয়ে বইয়ের পাতা থেকে উঠে এসেছে। এই বইটি মাত্র ৬৪ পাতার এবং বইটি দৈর্ঘে প্রস্থেও সাধারণের চেয়ে ছোট তাই আমি একে একরকম ছোট গল্পই বলেছি। দামও আমার কাছে মোটামুটি ঠিক বলে মনে হয়েছে, তবে আরেকটু কম হলে মনে হয় সঠিক হতো।