11 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 200TK. 189 You Save TK. 11 (6%)
ছোটগল্প চর্চার শুরুতেই ইমতিয়ার শামীম সজ্ঞান পাঠকের মনোযোগ দখল করেন। বাংলা গল্পসাহিত্যের উত্তরাধিকার নিয়ে নিভৃতচারী এই তরুণ লেখক প্রচল সাহিত্যাদর্শের বিপরীতে নতুন ডাঙ্গার সন্ধানী হয়
#আড্ডাখানায়_রকমারি
#রিভিউ_২০২৩
বই: শীতঘুমে একজীবন
লেখক: ইমতিয়ার শামীম
ধরন: সমকালীন গল্প
প্রকাশনী: প্রসিদ্ধ পাবলিশার্স
পৃষ্ঠা: ৯৬
মূল্য: ২০০ টাকা।
ইমতিয়ার শামীমের প্রথম গল্পগ্রন্থ "শীতঘুমে একজীবন"। এই ঘুমের স্বপ্নে এবং দুঃস্বপ্নে জেগে উঠেছে ছাত্র-রাজনীতি, বন্ধুত্ব, মানবীয় প্রেম-ভালোবাসা, অন্তর্লীন ধ্যান, দ্বন্দ্ব, ক্যাম্পাস জীবন এবং টালমাটাল সময়ের কিছু স্ন্যাপশট। গাঢ় কালো পিচ ঢাকা রাস্তায় যেমন পড়ে থাকে খন্ডিত কাঁচের টুকরো - আর সেই খন্ডিত আয়নায় টুকরো টুকরো খন্ডিত আকাশ; "শীতঘুমে একজীবন" যেন সেই অনেক খন্ডিত কোন প্রতিচ্ছবি। তবু এই প্রতিচ্ছবি কোথাও যেন হয়ে ওঠে না একটা পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি। তাই "শীতঘুমে একজীবন" যেন এক ধরনের "কোহরা" হয়ে ঝুলে থাকে পাঠকের যাত্রায়।
এই "কোহরা" হয়তো লেখকের প্রথম বইয়ের মধ্যকার একধরনের আড়ষ্টতার ফল। বইয়ের প্রথম অর্ধেক গল্পগুলোতে হয়তো কলম চেপে ধরার প্রবণতা বেশ লক্ষনীয়। ইমতিয়ার শামীম মানেই ঘন দুধের মতো রূপকের আশ্রয়, যা এই বইয়ে বেশ ভালোভাবেই বিদ্যমান। তবে অযাচিত দীর্ঘ লাইন এবং অজস্র রূপকের কারনে প্রথমদিকের কিছু গল্প একটা দৃশ্যপট রচিত না করে আলগোছে গড়িয়ে যাচ্ছে দৃশ্যান্তরে।
এখানে একটা কথা তো মনে রাখা প্রয়োজন যে এটা লেখকের সর্বপ্রথম বই। তাই গল্পগুলো "শীতঘুমে একজীবন" নামের বিষন্নতার মতোই কিছুটা আত্ন/হত্যাপ্রবন হয়ে উঠলো কিনা। সফল গল্প হয়ে উঠতে উঠতেও গড়িয়ে দৃশ্যান্তরে হারিয়ে যাবার মতো একটা ব্যাপার। বইয়ের প্রথম ৩টা গল্প “অচরিতার্থ পূর্বজন্ম”, “উপান্তে গণি/কাপথ” এবং “কবিতার সংজ্ঞা” যে নির্মানমূখী হতে লেখা - ধীরে ধীরে সেটা সূর্যস্তের মতোই হেলে পড়ে নির্বানমূখী স্রোতে।
"আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিকঝিক" এর মতো ম্যাগনাম ওপাস পড়ে আমাদের যে পরিচয় একজন ইমতিয়ার শামিমের সাথে, পাঠক এখানে এসে সেটা হয়তো ভালোভাবেই মিস করবেন। তবে মোপাসার একটা গল্প আছে এরূপ:-
"একটা ক্লান্ত অসুস্থ আহত সৈন্যদল যাচ্ছিল। কিন্তু তাদের হাঁটবার মতো শক্তিও অবশিষ্ট ছিল না। অথচ ওই দলে একটা মেয়ে থাকার জন্যে তারা জোশে জোশে মেয়েটার সাথে গল্পসল্প করতে করতে পৌছে গেল গন্তব্যস্থলে।"
পাঠকও একি ভাবে সেই "মেয়েটির রূপকার্থে" ইমতিয়ার শামীম কে অনুসরণ করে ঠিকই এই গল্পগ্রন্থের শেষটায় পৌছে যেতে পারবেন যতটুকু আড়ষ্টতা আছে তা দুহাতে সরিয়ে। আমাদের চেনাজানা সেই লেখককে আমরা আবার খুঁজে পাবো "চিরদিন তোমার আকাশ", "অন্ধপ্রদীপ শূন্য-পানে" এবং "বালকের বাম হাত" এর গল্পের শব্দ জুড়ে। যেন ক্রিকেট ম্যাচের প্রথম স্পেল ভালো না হলেও দ্বিতীয় স্পেলে এসেই স্বমহিমায় আবির্ভবের মত।
ইমতিয়ার শামীমের নিজের শব্দে উচ্চারিত (ভূমিকায়) "দুর্বলতা ও আবেগের সাক্ষী" এই গল্পগুলো আক্ষরিক অর্থে সেভাবে দুর্বল নয়, বরং আমরা যে ইমতিয়ার শামীমের সাথে পরিচিত হই "আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিকঝিক" অথবা "আমরা হেঁটেছি যারা" এর কাব্যিক গদ্যের আঙিনায়, তাদের কাছে কিছুটা রুগ্ন লাগবে। আবেগের ঝিলিক থাকলেও শেষের কিছু গল্পে তার সাহিত্যিক প্রস্তুতি বেশ স্পষ্ট।
ইমতিয়ার শামীমের লেখা মানেই ভিন্নরকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড়াবার একটা প্রয়াস। তার কাব্যধর্মী গদ্য এবং রূপকের কারুকাজ পাঠককে ভিন্ন ভিন্ন পার্সপেক্টিভে দেখতে উৎসাহিত করে। ইমতিয়ার শামীমের গদ্য মানেই কখনো ফিনফিনে কুয়াশায় হেঁটে বেড়াবার প্রয়াস, যেখানে আপনাকে সামনের দৃশ্যপট অবলোকন করতে ভ্রু-কুঞ্চিত করতে হবে। ভাবতে হবে। আবার কখনো "ভাই ভাই রোদে" হেমন্তের অবকাশের মতো। "শীতঘুমে একজীবনের" গল্পগুলো প্রথম বইয়ের আবেগের মোড়কে মোড়ানে পাঠকের জন্যে এক উৎসুক পাঠ।
লেখকের গল্পের এক চরিত্রের মতোই পাঠকও হয়তো "সমস্ত উৎসুক্য চায়ের সাথে পান করে ফেলবেন।"