বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বিশাল সুবিস্তৃত প্রেক্ষাপট ও এ সংগ্রামে চট্টগ্রামের অংশগ্রহণ নিয়ে নিয়ে গবেষণাধর্মী বই।
বাংলাদেশের সুদীর্ঘ মুক্তিসংগ্রামের বিরাট ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে যত বই রচিত হয়েছে তার মধ্যে নিঃসন্দেহে গবেষক ও সুলেখক জামাল উদ্দিনের এ বইটি গুরুত্বপূর্ণ লাভ করেছে। ৪৭ পূর্ব সময় থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে চট্টগ্রামের মানুষের অবদান দুই মলাটের মধ্যে নিয়ে এসেছেন লেখক। এ ইতিহাস তুলে আনতে গিয়ে চট্টগ্রামের গণ্ডী পেরিয়ে প্রাসঙ্গিক ভাবেই গোটা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসই উঠে এসেছে। ২৬ মার্চ বাংলাদেশের ৪৫তম স্বাধীনতা দিবস। বাংলার মানুষ এবার স্বাধীনতার ৪৪ বছর উদযাপন করবে। কারো একদিনের হুঁইসেলে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। একাত্তরে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ জীবন দান করেন। ২৫ মার্চ রাতে জনগণ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার অপেক্ষায় থাকেনি। পাকিস্তানি হামলার প্রতিবাদে রাজারবাগের পুলিশ, পিলখানার বিডিআর, মেজর কেএম সফিউল্লাহ, মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, মেজর খালেদ মোশাররফ, ক্যাপ্টেন (সেক্টর কমান্ডার) রফিকুল ইসলামসহ সেনানিবাসের বাঙালি সেনা অফিসার ও সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে জনগণ প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যদিও ওই রাতে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন যা টেলিফোন ও ওয়্যারলেসের মাধ্যমে রাতারাতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরদিন আমেরিকা, ব্রিটেন, ভারতসহ বিশ্বের পত্রপত্রিকায় মুজিবের স্বাধীনতার ঘোষণার খবর প্রকাশিত হয়। বঙ্গবন্ধু যে ওইরাতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, এ সম্পর্কে হাজার হাজার দালিলিক প্রমাণ রয়েছে।
উপরন্তু বইটি যে সময়ে লেখা হয়েছে, সে সময়ে মুক্তিযুদ্ধ এক রকম নির্বাসিত ছিল। সেই পরিস্থিতিতে লেখকের দীর্ঘ তেরো বছর নিরলস গবেষণার ফসল এই বই। এদিক থেকেও বইটি বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।