কবিতা তো বোধের মঞ্জুরী! দেখা- না দেখার মিলনে কল্পনার শাসন। যখন কবিতা হয়ে ওঠে তখন ভাষা হয় সংযত সুন্দরের অভিসারী। সৈয়দা নাজনীন আখতারের কবিতায় যেমন- 'আমি তখন রেশমি চুড়ির রিনিঝিনি সুর/ বেভুলো বাউলের সারিন্দায়।' কবি তো উদ্বেলিত প্রেমিক, অবগাহন করেন- এই জগতের বাইরে কোনো এক ঐশ্বরিক প্রেমের সরোবরে। অচিরেই যা হয়ে ওঠে- বোধের-ধ্যানের ও প্রেমের আকাশ-গঙ্গা! কখনও মনে হয়- 'কাৎলাহার বিল, রাইকালির মাঠ থমকে দাঁড়াচ্ছে যবগ্রামের শ্মশানঘাটে-ছাতিমতলায়।' অথবা শ্বাস-প্রশ্বাসে জীবন্ত হয়ে ওঠে বাবার শরীরের সৌরভ, বাংলার মিঠে সুর! এই ভাবনা- এই ধ্যানের আখ্যান হয়ে ওঠে- ফসলের মাঠ, সোনালি ঢেউ কিংবা আধখানা ভূঁইচাপা। অথবা লাল-কিশোরী হয়ে ছুটে যেতে চায়-দূরে-অলিন্দে। আবার মনে হয়-'আমি একদিন রেলগাড়ি হবো। 'সৈয়দা নাজনীন আখতার মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে কবিতায় দেখিয়েছেন মুক্তির মহামানবরূপে। অনিন্দ্য-সুন্দর অথচ বৈচিত্র্যত্রপূর্ণ কাব্য-সুষমা পাওয়া যায় তাঁর কবিতায়। পড়তে-পড়তে কখনও কখনও মনে হয়-তাঁর কবিতায়-'আসমানি সুরমা ঝরে।'